তীব্র গরমে এসএসসি পরীক্ষার সময় জয়পুরহাটে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের ভোগান্তি কমাতে একটি মানবিক ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য একটি অস্থায়ী বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা করেন, যেখানে তারা স্বস্তিতে বসে অপেক্ষা করতে পারছেন।

গত ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিন থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে পানি ও ওরস্যালাইন বিতরণ করা হয়। সেই সময় সরেজমিনে দেখা যায় - প্রচণ্ড রোদ ও গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অভিভাবকদের, বসার বা বিশ্রামের কোনো উপযুক্ত স্থান নেই। এই বাস্তব পরিস্থিতি থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্রামাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এই অস্থায়ী বিশ্রামাগার চালুর ফলে এখন অভিভাবকরা আর রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন না। তারা নির্দিষ্ট স্থানে বসে স্বস্তিতে অপেক্ষা করতে পারছেন, যা তাদের শারীরিক কষ্ট অনেকটাই লাঘব করেছে।

মোক্তাদুল হক আদনান বলেন “২১ এপ্রিল যখন পানি ও স্যালাইন বিতরণ করছিলাম, তখন কাছ থেকে অভিভাবকদের কষ্টটা অনুভব করি। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকছিলেন। তখনই মনে হয়েছে, অন্তত একটা বসার জায়গা তৈরি করা দরকার। সেই চিন্তা থেকেই এই অস্থায়ী বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে”

মোক্তাদুল হক আদনান এমন একটি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, যেখানে শিক্ষা ও জনসেবা ছিল জীবনের অংশ। তার বাবা মরহুম অধ্যক্ষ শামছুল হক এবং মা - উভয়েই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, এই পারিবারিক মূল্যবোধই তাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে।

স্থানীয়দের অনেকেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, মরহুম অধ্যক্ষ শামছুল হককে তারা ‘জনতার মেয়র’ হিসেবেই মনে রাখেন। তার সেই পরিচয় ও মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগ আজও জয়পুরহাটবাসীর কথায় উঠে আসে, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে।

বিশ্রামাগারে উপস্থিত একাধিক অভিভাবক তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন “এই ছেলে একজন অধ্যক্ষের ছেলে। আমরা তার বাবাকে জনতার মেয়র হিসেবেও ডেকেছি। আজ তার ছেলেকেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখে ভালো লাগছে”

আরেকজন অভিভাবক বলেন “আদনানের বাবা-মা দুজনেই শিক্ষক ছিলেন। সেই শিক্ষা ও মূল্যবোধ থেকেই সে মানুষের জন্য কাজ করছে। জয়পুরের গর্ব আদনান, আমরা তার জন্য দোয়া করি”

এই উদ্যোগটি শুধু একটি সেবামূলক কাজ নয়, বরং বাস্তব সমস্যা দেখে দ্রুত সমাধান দেওয়ার একটি উদাহরণ - যা জনসেবার একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।