১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। সেই দিন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করেন। এই ঘটনা মানবজাতির জন্য নতুন যুগের সূচনা করে এবং জাতিসংঘ ২০১১ সাল থেকে এই দিনটিকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব হিউম্যান স্পেস ফ্লাইট’ নামে পালন করে আসছে।

ভস্তক-১ নভোযানে চড়ে ইউরি গ্যাগারিন ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেন। তখন তিনি কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধি। মাত্র ১০৮ মিনিটের এই যাত্রা বিজ্ঞানের ইতিহাস চিরতরে বদলে দেয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল এক প্রস্তাবের মাধ্যমে ১২ এপ্রিলকে আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা করে। এর মূল উদ্দেশ্য মহাকাশবিজ্ঞানের সাহায্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, সদস্যদেশগুলোর কল্যাণ বৃদ্ধি এবং মহাকাশকে যুদ্ধের ময়দান থেকে রক্ষা করা।

মহাকাশ গবেষণার পথ ছিল সাহসী অর্জনের ধারায় ভরা। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক–১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়। এরপর আসে একের পর এক ঐতিহাসিক সাফল্য। ১৯৬৩ সালের ১৬ জুন ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা প্রথম নারী হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের পৃষ্ঠে প্রথম পা রাখেন। ১৯৭৫ সালের ১৭ জুলাই অ্যাপোলো এবং সয়ুজ মহাকাশযানের ডকিং বা সংযোগ স্থাপন ঘটে, যা ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক যৌথ মিশন।

১৯৬৭ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হয় মহাকাশের ম্যাগনা কার্টা নামে পরিচিত আউটার স্পেস ট্রিটি। এই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে মহাকাশ বা চাঁদ এবং অন্যান্য গ্রহ কোনো দেশ নিজের বলে দাবি করতে পারবে না এবং এগুলো কেবল শান্তিপূর্ণ গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হবে।

সূত্র: জাতিসংঘ