যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। সিআইএর সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান বলেছেন, ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্টদের কথা মাথায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী তৈরি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে বলা আছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যের সমর্থনে কোনো অক্ষম প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরানো যায়।

গত শনিবার এমএস এনবিসি টেলিভিশন চ্যানেলে ব্রেনানের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেবেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি ‘স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন’। এমন অবস্থায় তাঁকে কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে রাখা এত মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ব্রেনান যুক্তি দেন, পারমাণবিক অস্ত্রসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভান্ডারের উপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ তাঁকে অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকিতে পরিণত করেছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং জনসমক্ষে দেওয়া আক্রমণাত্মক বক্তব্য নিয়ে ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক চলছে। সাবেক সিআইএ প্রধানের এই মন্তব্য তাঁকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সিআইএর পরিচালক ছিলেন ব্রেনান।

গত ৭ এপ্রিল ইরান সরকারকে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, ইরান সরকার যদি তা না মানে তবে ‘আজ রাতেই ইরানি সভ্যতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে’।

এমএস এনবিসি–কে ব্রেনান বলেন, এ ধরনের ভাষা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। আমার মনে হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখে ২৫তম সংশোধনী লেখা হয়েছিল।’

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে বলা আছে, যদি প্রেসিডেন্ট মারা যান, পদত্যাগ করেন বা অভিশংসনের মাধ্যমে পদচ্যুত হন, তাহলে ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর জায়গায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়াও সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত। এই সংশোধনী ১৯৬৫ সালে ৮৯তম কংগ্রেসের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলোর কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং ১৯৬৭ সালে এটি পাস হয়।

সর্বশেষ হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কারণ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পুরো মন্ত্রিসভা প্রথম থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অবিচল আনুগত্য বজায় রেখেছেন।

গত শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ব্রেনানের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত চালাচ্ছে। এই তদন্তকে ব্রেনানসহ অন্যরা প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।