পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিলিগুড়িতে জোরালো প্রচার চালিয়েছেন। রোববার বিজেপির ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে তিনি ডাক দেন, ‘পদ্ম ফোটান, অনুপ্রবেশকারী হটান, জঙ্গলরাজ হটান, বিজেপি ডাবল ইঞ্জিন সরকার গড়ুন।’ অন্যদিকে আসানসোলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে পাল্টা আক্রমণ জানান।

রোববার শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে বিশাল জনসভায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য উত্তরবঙ্গে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষ কাজ হারাচ্ছেন। পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা ৩৫ বছর বামফ্রন্টকে দিয়েছেন, ১৫ বছর তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছেন। এবার মোদিকে একটা সুযোগ দিন। নারীদের সুরক্ষার জন্য, কর্মসংস্থানের জন্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গরিবদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার জন্য বিজেপিকে ভোট দিন। বাংলার সংস্কৃতিকে তোষণের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য বিজেপিকে দরকার।’

তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘উত্তরবঙ্গবিরোধী, আদিবাসী ও চা-শিল্পবিরোধী’ দল বলে নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন যে, এই দল ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিয়েছে। তারা চা-বাগান বরবাদ করেছে এবং শুধু নিজেদের ভোটব্যাংক রক্ষা করছে। মাদ্রাসা খাতে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে তারা সাড়া দিচ্ছে না।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপির নতুন সরকার এলে দুর্নীতিবাজ তৃণমূল সরকারের সব দুর্নীতির পাই পাই করে হিসাব নেবে। এবার তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত।’ এছাড়া ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর শিলিগুড়ি করিডর বিচ্ছিন্ন করার হুমকির কঠোর জবাব বিজেপি সরকারই দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আসন্ন পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছাও জানান।

অন্যদিকে রোববার আসানসোল শিল্পাঞ্চলে নির্বাচনী সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হলো এসআইআর (নিবিড় সংশোধিত ভোটার তালিকা)। এই তালিকা তৈরির নামে মোদি সরকার বহু মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। বাংলার মানুষ এটা মেনে নিতে পারছে না, এবারের নির্বাচনে মোদি এর জবাব পাবেন।’ বিজেপির রাজনীতির ধরন নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘বিহারে ভোটের আগে ওরা টাকা দিয়েছে, আর পরে বুলডোজার চালিয়েছে। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। মিথ্যার রাজনীতি শুরু করেছে। পাঞ্জাবিদের ওরা পাঞ্জাবি না বলে খালিস্তানি বলছে।’ এদিন তিনি আসানসোল ছাড়াও পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ, বাঁকুড়ার ওন্দা এবং ছাতনায় দলীয় জনসভায় বক্তব্য দেন।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রোববার বাঁকুড়ার সোনামুখীতে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে বলেন, ‘এবার খেলা শেষ, উন্নয়ন শুরু।’ উত্তর প্রদেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ডাবল ইঞ্জিন সরকার উন্নয়নের হাল ধরেছে এবং মাফিয়াদের জাহান্নামে পাঠিয়েছে। এদিন তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার ও কাঁথিতেও জনসভা করেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রোববার হুগলির সপ্তগ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে দুটি জনসভায় অংশ নিয়ে বিজেপির সমালোচনা করেন।