নরওয়ের উত্তাল উপকূল রেখায় অবস্থিত হাল্টেন লাইটহাউসে কাজ করেন পাল বিয়র্নডাল। আজকের ডিজিটাল যুগে যেখানে ঝকঝকে স্টুডিও এবং স্পষ্ট শব্দের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে তিনি করেন একেবারে উল্টো। তাঁর কনটেন্টে কোনো ফিল্টার নেই, কোনো কৃত্রিম আলোকসজ্জাও নেই। অনেক সময় কুয়াশার কারণে ভিডিওতে চেহারা দেখা না গেলেও টিকটকে বিয়র্নডালের ভিডিওগুলো অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে বিয়র্নডালের টিকটক অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজারের বেশি। লাইকের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি।
বিয়র্নডালের ভিডিওর আলাদা আকর্ষণ হলো প্রবল বাতাসের গর্জন এবং ঢেউয়ের আছড়ানো শব্দ। এই প্রচণ্ড বাতাস মাইক্রোফোনের সব ক্ষমতা কেড়ে নেয়, ফলে ভিডিওতে তিনি কী বলছেন তা একটি শব্দও বোঝা যায় না। এই অস্পষ্টতাই দর্শকদের অদ্ভুতভাবে টানে। শুধু তাই নয়, তাঁর ভিডিওগুলোর মন্তব্য অংশ এখন যেন যৌথ গল্প লেখার জায়গা হয়ে উঠেছে। দর্শকরা নানারকম অদ্ভুত ও হাস্যকর মন্তব্য লিখছেন সেখানে।
একটি ভিডিওতে কয়েকশ মন্তব্য দেখা গেছে। সেখানে একজন ব্যবহারকারী দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, “ইশ্! যৌবনকালে এই উপদেশ কেন পেলাম না।” অন্যজন বিয়র্নডালের অস্পষ্ট উপদেশকে নিজের ব্যর্থ প্রেমের কারণ হিসেবে দায়ী করে বলছেন, “ওহ্! তার মানে, এখানেই সমস্যা ছিল। ধন্যবাদ বন্ধু!”
গত বছর তিনি কফি বানানোর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে সেই ভিডিও। তাতে দেখা যায়, বাতিঘরের ওপর দাঁড়িয়ে বিয়র্নডাল থার্মোস থেকে কফি ঢালার চেষ্টা করছেন, কিন্তু প্রবল বাতাস কাপে পড়ার আগেই সেটা অনুভূমিকভাবে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এসব ভিডিও এত জনপ্রিয় যে আলিএক্সপ্রেস, ইউটিউব, সাবওয়ে, মাইক্রোসফটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও মন্তব্য করে থাকে।
সূত্র: টিকটক






