যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি নাকচ করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বে থাকা সেন্টকম জানায়, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসন ও ইউএসএস মাইকেল মারফি নামক দুটি ডেস্ট্রয়ার গতকাল শনিবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে আরব উপসাগরে কার্যক্রম শুরু করেছে।

সেন্টকমের বক্তব্য অনুসারে, এটি তাদের একটি বৃহত্তর মিশনের অংশ। উদ্দেশ্য হলো ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীতে যে মাইন স্থাপন করেছিল, তা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা।

মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজগুলোর উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা একটি নতুন পথ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ উৎসাহিত করতে শিগগির এই নিরাপদ নৌপথ নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে ভাগ করে নেব।”

অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার আরও মন্তব্য করেন, এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহিত হয়। এছাড়া বিপুল পরিমাণ সারসহ অন্যান্য পণ্যও এই পথে পরিবহন করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর ইরান এই সংকীর্ণ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করে গতকাল ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালির দিকে মার্কিন জাহাজগুলোর অগ্রসর হওয়া ও প্রবেশের বিষয়ে সেন্টকম কমান্ডারের দাবি নাকচ করা হলো। এই পথ দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে আইআরজিসি ‘কঠোর জবাব’ দেবে বলে এই সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ার করেন।