নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানের নভোচারীরা আজ শনিবার সকালে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেছেন। ২০২২ সালে আর্টেমিস–১ অভিযানে নভোচারী ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠানো হয়েছিল, তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফেরার সময় তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থায় ক্ষয় দেখা দিয়েছিল। এবারও সেই উদ্বেগ ছিল, কিন্তু সবকিছু অতিক্রম করে নভোচারীরা সফলভাবে ফিরে এসেছেন।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় অল্পক্ষণের জন্য হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ায় সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। তিনি নিয়ন্ত্রণকক্ষকে বলেন, ‘হিউস্টন, যোগাযোগ ঠিক আছে। আমরা আপনাদের স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছি।’ এতে নিশ্চিত হয় যে নভোচারীরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরছেন। ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রচণ্ড তাপে উত্তপ্ত লাল প্লাজমায় ঢেকে যাওয়ায় প্রায় ছয় মিনিট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, সবকিছু নির্ভর করছিল তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থার ওপর। যোগাযোগ ফিরলে নিয়ন্ত্রণকক্ষে করতালি ওঠে, সেখানে নভোচারীদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।

এই ঐতিহ্যবাহী অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন তিন মার্কিন নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার, রিড ওয়াইজম্যান এবং একজন কানাডীয় জেরেমি হ্যানসেন। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদে বেজ স্থাপন করে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করা। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর এটি প্রথম চাঁদের চারপাশে মানুষের ঘুরে আসার অভিযান।

মহাকাশযানের গতি ও তাপ

বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মহাকাশযানের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার এবং তাপমাত্রা পৌঁছেছিল প্রায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ অবস্থায় গতি ছিল শব্দের গতির ৩০ গুণের বেশি এবং তাপমাত্রা সূর্যপৃষ্ঠের প্রায় অর্ধেক। ২০২২-এর আর্টেমিস–১-এ তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থার ক্ষতির কারণে এবার ঝুঁকি কমাতে পুনঃপ্রবেশের জন্য সংক্ষিপ্ত পথ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বৈচিত্র্যময় নভোচারী দল

আর্টেমিস–২-এ বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়ে গেছে। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অমার্কিন হিসেবে চাঁদের চারপাশে ঘুরে এসেছেন। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে অ্যাপোলো অভিযানে কেবল শ্বেতাঙ্গ মার্কিন পুরুষরাই ছিলেন। এছাড়া, এই নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩-এর চেয়েও দূরবর্তী।