লন্ডনের সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল থেকে ৩০ হাজারের বেশি ব্যক্তিগত ছবি ডাউনলোড করে সংরক্ষণের অভিযোগে মেটার সাবেক এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য ও ছবির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আদালতের নথির ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মেটার সাবেক কর্মীটি একটি স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছিলেন। এর সাহায্যে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে অন্যের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল। এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়েনি।

বিবিসিকে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, এক বছরের বেশি আগে অননুমোদিত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযুক্ত কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের জানানো হয়েছে। ফেসবুকের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সুরক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়। গত নভেম্বরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

সম্প্রতি মেটার এআই চ্যাটবটের প্রম্পট বা নির্দেশনাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যবহারকারীর তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হয় সে বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাবে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গত মাসে এক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, মেটা রে-ব্যান স্মার্ট চশমা ব্যবহারকারীদের ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিও পর্যালোচনা করতে কেনিয়ার একদল আউটসোর্সিং কর্মীকে বাধ্য করেছিল। এর মাধ্যমে মেটা রে-ব্যান স্মার্ট চশমা ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাঁদের ধারণ করা ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র: ম্যাশেবল