২০২৬ সালের শুরুর তিন মাসেই বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রচণ্ড ধাক্কা পড়েছে। এই সময়ে প্রায় ৮০ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমাগত ব্যবহারকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান র্যাশনালএফএক্স জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে মোট ৭৮ হাজার ৫৪৭ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
র্যাশনালএফএক্স-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে রয়েছে। এই দেশে গত তিন মাসে ৫৯ হাজার ৫১০ জন প্রযুক্তিকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। অন্যান্য দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ৪ হাজার ৪৫০ জন, ভারতে ১ হাজার ৬২০ জন এবং যুক্তরাজ্যে ১ হাজার ৫০ জন ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মোট ছাঁটাইয়ের প্রায় অর্ধেকই এআই এবং অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সরাসরি প্রভাবে ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় আইটি প্রতিষ্ঠান কগনিজ্যান্টের প্রধান এআই কর্মকর্তা বাবাক হোজাত মনে করেন, অনেক কোম্পানি ব্যবসায়িক পরিবর্তনের দায় এড়াতে এআইকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, এআই ব্যবহারে কোম্পানির উৎপাদনশীলতা আসলেও বাড়ছে কি না, তা বুঝতে আরও ছয় থেকে বারো মাস সময় লাগবে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার কথা ভেবে এখনই মানুষের বদলে প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করছে।
বিশ্বজুড়ে এই পরিবর্তনের ঢেউ বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে। বিশেষ করে তরুণ ফ্রিল্যান্সার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। আগের মতো সাধারণ কোডিং বা গ্রাফিক ডিজাইনের কাজগুলো এখন এআই টুল নিজেই দ্রুত করে দিচ্ছে। ফলে নতুন পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির বাজার কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা দ্রুত এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শিখছেন এবং নিজেদের দক্ষ করে তুলছেন, তাঁরা এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন।






