জাপানের কিউশু দ্বীপের উপকূলে অবস্থিত কিকাই ক্যালডেরা আগ্নেয়গিরিটি প্রায় ৭ হাজার ৩০০ বছর আগে প্রচণ্ড অগ্ন্যুৎপাতের সাক্ষী হয়েছে। সম্প্রতি কোবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূপদার্থবিদ সিমা নোবুকাজু এবং তাঁর দল সমুদ্রতলের কয়েক ডজন সিসমোমিটার ও এয়ারগান ব্যবহার করে জরিপ করেছেন। এই জরিপে আকাহোয়া অগ্ন্যুৎপাতের উৎস ম্যাগমা আধারটি আবার পূর্ণ হতে শুরু করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী এই আগ্নেয়গিরি পুনরায় জেগে উঠছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় ৭ হাজার ৩০০ বছর আগে এই অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ১৬০ ঘনকিলোমিটার শিলা ও ছাই নির্গত হয়। এটি ১৯১২ সালের নভারুপ্টা অগ্ন্যুৎপাতের চেয়ে ১১ গুণ এবং ১৯৯১ সালের পিনাতুবো অগ্ন্যুৎপাতের চেয়ে ৩২ গুণ শক্তিশালী ছিল। এই বিস্ফোরণে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং ছাই জাপান ও কোরিয়া উপদ্বীপের বিশাল অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন জোমন সভ্যতা ধ্বংসের কারণও এই অগ্ন্যুৎপাত বলে মনে করা হয়। বর্তমান ঘনবসতিপূর্ণ বিশ্বে এমন অগ্ন্যুৎপাত হলে ক্ষয়ক্ষতি অপরিসীম হবে।
গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, বর্তমান ম্যাগমার রাসায়নিক গঠন আকাহোয়া অগ্ন্যুৎপাতের ম্যাগমার থেকে ভিন্ন। গত ৩ হাজার ৯০০ বছর ধরে নতুন লাভা ডোম গড়ে উঠছে এবং ম্যাগমা আধারে নতুন ম্যাগমা প্রবেশ করছে। কিকাই ছাড়াও ইয়েলোস্টোন এবং তোবার মতো ক্যালডেরাগুলো দীর্ঘ বিরতির পর জেগে ওঠার জন্য পরিচিত। তবে এই চক্র কীভাবে কাজ করে তা এতদিন রহস্যাবৃত ছিল।
গবেষণা নিয়ে সিমা নোবুকাজু বলেন, "বিশাল ক্যালডেরা অগ্ন্যুৎপাত কীভাবে ঘটে, তা বোঝার জন্য আমাদের জানতে হবে, কীভাবে সেখানে ম্যাগমা জমা হয়।" এই ম্যাগমা রি-ইনজেকশন মডেল শুধু কিকাই নয়, ইয়েলোস্টোন বা তোবার মতো আগ্নেয়গিরিগুলোকেও আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। এই আগ্নেয়গিরির বেশিরভাগ সমুদ্রের নিচে থাকায় গবেষণার জন্য আদর্শ। সমুদ্রতল অতীতের অগ্ন্যুৎপাতের চিহ্নগুলো চমৎকারভাবে সংরক্ষণ করে। গবেষণাটি কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট






