ইরান সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে। এই পাইপলাইন বর্তমানে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র পথ। আজ বুধবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনের পাশাপাশি সৌদি আরবের আরও বেশ কিছু স্থাপনাকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।

ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশাল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আটকে যায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছে দিচ্ছিল।

সূত্রটি জানিয়েছে, হামলার কারণে পাইপলাইন দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং এখন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানিসংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

সৌদি আরামকো অভ্যন্তরীণভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে, ফলে রপ্তানির জন্য প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল অবশিষ্ট থাকে। শিপিং সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ ইয়ানবু বন্দরে হামলা সত্ত্বেও ২৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে সেখানে দৈনিক গড়ে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল লোড করা হয়েছে, যা বন্দরটির সর্বোচ্চ সক্ষমতার প্রায় কাছাকাছি।

বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইয়ানবুতে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানিগুলোর তেল স্থাপনাও রয়েছে।