সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে সন্তান লালন-পালন নিয়ে এক ধরনের ঐকমত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্টিভ জবস, বিল গেটসের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানও চান না তাঁর সন্তান অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটাক। মজার বিষয়, নিজেদের সন্তানদের ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করলেও এই প্রযুক্তিবিদদের উদ্যোগেই বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ঘটেছে।

সম্প্রতি ‘মোস্টলি হিউম্যান’ পডকাস্টে সাক্ষাৎকারে স্যাম অল্টম্যান বলেন, তাঁর সন্তানের চেয়ে কিছুটা বড় শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আইপ্যাড ব্যবহার করা তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে। যেসব শিশুর কাছ থেকে আইপ্যাড সরানো কঠিন হয়ে পড়ে, তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। তাই তিনি চান না তাঁর সন্তান ‘আইপ্যাড কিড’ হিসেবে বেড়ে উঠুক। প্রসঙ্গত, অল্প বয়স থেকে দীর্ঘক্ষণ আইপ্যাডের মতো ডিভাইস ব্যবহার করে যারা সহজে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না, তাদের ‘আইপ্যাড কিড’ বলা হয়।

ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বা নতুন কিছু শেখার জন্য এটি প্রায়ই ব্যবহার করে। তবে নিজের সন্তানের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার নিয়ে অল্টম্যান বলেন, ‘আমি যৌক্তিক সময়ের কিছুটা দেরিতেই তাকে এটি দিতে চাইব। শুরুতেই নয়। আপাতত আমি চাই সে মাটিতে খেলাধুলা করুক।’

অল্টম্যানের মতে, ভবিষ্যতে শিক্ষায় এআই টুলের ব্যবহার বাড়বে এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ শিক্ষার মাধ্যমে শেখার গতি ত্বরান্বিত করবে। তবে এর সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকির দিকটিও তিনি তুলে ধরেছেন।

শুধু অল্টম্যানই নন, সিলিকন ভ্যালির অনেক প্রযুক্তিবিদ এমন চিন্তা করছেন। অ্যানথ্রোপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক সম্প্রতি জানান, তাঁর ছোট সন্তানের ইউটিউব ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন কারণ প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম তাঁকে আতঙ্কিত করেছে। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সন্তানদের ১৪ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মোবাইলফোন দেননি। অ্যাপলের স্টিভ জবসও সন্তানদের আইপ্যাড থেকে দূরে রাখতেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে