দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব জানিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের করহার বেশি হওয়া উল্লেখ করে সংগঠনটি এ দাবি তুলেছে। এছাড়া মূসক হার কমানো এবং উৎপাদনশীল খাতের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংগঠন এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করে। আজ সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে এ আলোচনা হয়। কর, শুল্ক ও মূসক হ্রাসের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি। আলোচনায় ফরেন চেম্বারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রূপালী চৌধুরী।

ফরেন চেম্বারের প্রস্তাবগুলো শুনে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনার আশ্বাস দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহসভাপতি ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরীও বক্তব্য দেন। বাজেট নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও যুক্তি তুলে ধরেন সংগঠনের পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া। এ সময় সংগঠনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘আমরা করজাল সম্প্রসারণের কথা বলেছি। কার্যকর করহার কমানোর কথা বলেছি। কোভিডের পর যুদ্ধ শুরু হয়। তাতে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১২২ টাকায় উঠে যায়। যে কারণে আমরা বেশ কিছু খাতে এখন নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখছি। তাই সামষ্টিক অর্থনীতির বিষয়গুলো দেখা উচিত।’

ফরেন চেম্বারের পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, করপোরেট করহার ভিয়েতনামে ২০ ও ইন্দোনেশিয়ায় ২২ শতাংশ। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাভুক্ত দেশগুলোতেও এ হার ২০ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে সাড়ে ২৭ শতাংশ। তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কেন বাংলাদেশে আসবে? জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এসব দেশের কর আদায়ের ধারেকাছে নেই আমরা।’

তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে করপোরেট করহারের পার্থক্য সাড়ে ৭ শতাংশ। এটা কমানোর দাবি জানানো হলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা আরও বাড়ে কি না, সেই চিন্তা করতেছি।’

শিল্প খাতের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। মূসকের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া। তিনি বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে করছাড়ের পরিমাণ ছিল জিডিপির ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ করছাড় ছিল রাজস্ব আহরণের প্রায় সমান।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ৫০ বছর ধরে কাকে কত ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেটার ফলাফল কী, তা নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। কর্মসংস্থান বা যেসব কারণে করছাড় দেওয়া হয়েছে, সেটার উদ্দেশ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার।

গাড়ির লাইসেন্স ও মূসক রিটার্নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নথি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন ফিকির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের চেম্বার থেকে ২২টি খাতে মোট রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ দেওয়া হয়।’ জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাজার হিস্যা অনুযায়ী কোন খাত কী পরিমাণ রাজস্ব দিচ্ছে, এমন কোনো গবেষণা আমাদের নেই।’

ফরেন চেম্বারের পরিচালক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ওরাকলের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা বলেন, ‘বৈশ্বিক কারণে সবাই এখন বিনিয়োগ চিন্তায় সতর্কতার মধ্যে রয়েছে। জ্বালানিসংকটের কারণে এখন আমাদের অভিঘাত সহ্য করতে হচ্ছে। এখন যদি আবার করের ক্ষেত্রে কোনো অভিঘাত আসে, তাহলে এটা দ্বিতীয় অভিঘাত হবে।’ এছাড়া একটি ডেটাবেজ তৈরি করতে এখন ৬৯ শতাংশ কর দিতে হয় বলে জানান তিনি।

মোবাইল অপারেটর রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াদ সাতারা বলেন, সিমকার্ড বদলের ক্ষেত্রে নতুন সিমের মতো কর ধার্য করা ঠিক নয়। এটা কমানোর প্রস্তাব করেন তিনি।