জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এ সময় উপাচার্যকে হেনস্তা করা এবং তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ মুক্তকণ্ঠের কাছে অভিযোগ করেছেন, শিক্ষার্থীরা অন্যায় দাবি নিয়ে ক্যাম্পাসে এলে তাঁদের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর গাড়িতে হামলা ও তাঁকে হেনস্তা করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন, বেগম রোকেয়া কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ভাবনা আক্তার বলেন, ‘গত ১০ মার্চ উপাচার্যের কাছে আমরা তিনটি দাবি জানাই। দাবিগুলো হলো একই বিষয়ে তিন-চারবার পরীক্ষা দেওয়ার পরও অকৃতকার্য হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র দেখার সুযোগদান এবং উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ। পরে কিছু (৭৬ জন) শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র আজ দেখানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু আজ দুপুরেও আমাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।’

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রকিব হোসেন বলেন, ‘আমাদের দাবি না মেনে ভিসি স্যার গাড়িযোগে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ তাঁর গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন এবং অন্যরা গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী–কর্মকর্তারা আমাদের মারধর করে সরিয়ে দিলে ভিসি স্যার এলাকা ত্যাগ করেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, স্নাতক (পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটো পাসের দাবিতে বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসের মূল ফটকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। কিন্তু অটো পাস না দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃঢ় অবস্থানের কারণে এই কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপরও আজ সকাল থেকে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী মূল ফটকে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। দুপুরে উপাচার্য ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং তিনি হেনস্তার শিকার হন।

এর আগে গত বছরের ২১ মে অটো পাসের দাবিতে আন্দোলনরত ২০২২ সালের স্নাতক (পাস) পরীক্ষার্থীদের হামলায় আহত হয়েছিলেন উপাচার্য।

উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যায্য দাবি ও অযৌক্তিক আবদারের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনোই সহানুভূতিশীল হতে পারে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অটো পাস সমর্থন করে না। শিক্ষার গুণগত মান রক্ষার স্বার্থে সামনে অটো পাস ও গ্রেস নম্বর নিরুৎসাহিত করা হবে। এ বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একবার অটো পাস চালু হলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।