বর্তমান সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর প্রথম সভায় সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প আলোচনায় তোলা হয়নি। প্রাথমিক কার্যসূচিতে ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে এটি ছিলেও আলোচনা সম্ভব না হওয়ায় আজ সোমবারের সভায় প্রকল্পটি পাস হয়নি।
প্রকল্পটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাখা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৬৪৯ কোটি টাকা। আজকের সভায় ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৭টি পাস হয়েছে। নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী জানান, ১৯টির মধ্যে ৭টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়েছে। জনগণের টাকার কথা মাথায় রেখে খুব সতর্কভাবে প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, অপ্রয়োজনীয় কি না, এসব বিবেচনা করতে হচ্ছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আলোচ্য সূচিতে ১৯টি প্রকল্প ছিল। প্রায় সব প্রকল্প আগের তৈরি। এগুলো পর্যালোচনা করে অনেক সমস্যা পাওয়া গেছে। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না, সেটিও প্রশ্ন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধিকাংশ প্রকল্পই অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, চলমান পুরোনো প্রকল্পগুলো শেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিগগির নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। চলমান প্রকল্প পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্লেষণের পর অনেক প্রকল্প বাদ যাবে। বিগত দিনের প্রকল্পগুলোর ‘ক্লিনিং প্রসেস’শেষ করে আগামী দিনে নতুন প্রকল্প আনা হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দলের নির্বাচনী ইশতেহার ধারণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যেন পূরণ করা যায়, সেভাবে এগোচ্ছে সরকার। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের আগে নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া ১ হাজার ৩০০–এর মতো উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে। এগুলোর অনিয়ম ও যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিটি করা হয়েছে।






