ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর একজন ক্রু সদস্য এক দিনেরও বেশি সময় নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। উড়োজাহাজ পড়ার পর তিনি কোথায় লুকিয়েছিলেন, ইরানি বাহিনীর চোখ ফাঁকি কীভাবে দিয়েছিলেন এবং উদ্ধার অভিযান কীভাবে চালানো হয়েছিল—এসব নিয়ে সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
গত শুক্রবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এটি যুক্তরাজ্যের লেকেনহিথে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটির ৪৮ ফাইটার উইং-এর বিমান ছিল। বিমানটিতে দুজন ক্রু ছিলেন—একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্রব্যবস্থা-সংক্রান্ত কর্মকর্তা।
ভূপাতিতের সময় দুজনেই বিমান থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। ঘটনার পর দ্রুত পাইলটকে খুঁজে পাওয়া গেলেও অস্ত্রব্যবস্থা-সংক্রান্ত কর্মকর্তাকে আর খোঁজা যায়নি।
সূত্র জানান, শত্রুপক্ষের এলাকার এক পাহাড়ের খাঁজে একা লুকিয়ে ছিলেন সেই মার্কিন কর্মকর্তা। তাঁর কাছে ছিল একটি পিস্তল, একটি যোগাযোগ যন্ত্র এবং একটি শনাক্তকরণ যন্ত্র। তিনি জানতেন, বেঁচে থাকতে হলে ধরা পড়তে পারবেন না। এমনকি ইরানের নেতৃত্ব তাঁকে খুঁজে পেতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
সূত্রমতে, একসময় তিনি পাহাড় বেয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ফুট উঁচু এক জায়গায় পৌঁছে যান। সেখান থেকে তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ইরানি বাহিনী তাঁকে শনাক্ত না করতে পারে, সেজন্য তিনি থেমে থেমে যোগাযোগ করছিলেন।
শেষ পর্যন্ত উঁচু পাহাড়ে মার্কিন কমান্ডোদের একটি দল অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ কর্মকর্তাকে খুঁজে বের করে।
যখন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা করছিলেন, তখনই আলাদাভাবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। তারা ইরানের ভেতরে এমন তথ্য ছড়াচ্ছিল যে, দুই ক্রু সদস্যই ইতিমধ্যে উদ্ধার হয়ে গেছেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা এ কাজ করেছিল।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, উদ্ধার অভিযান যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলও কিছু পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছিল। দুই ইসরায়েলি সূত্র বলেছে, তারা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতাও করেছে।
শেষপর্যন্ত সিআইএ নিখোঁজ মার্কিন কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং সেই তথ্য সামরিক বাহিনীকে জানায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের বিপজ্জনক পাহাড়ে শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ছিলেন, তাঁকে আমাদের শত্রুরা খুঁজে বেড়াচ্ছিল, ক্রমাগত কাছে চলে আসছিল। তবে সত্যিকার অর্থে তিনি কখনো একা হয়ে পড়েননি।’






