সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কার অপরিহার্য। তিনি জানান, আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই সংস্কারগুলো এগিয়ে নেওয়া জরুরি।

অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ এবং রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি করেছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার চাইলে এগুলো সংশোধন করতে পারে। ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং রাজস্ব সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংশোধনের কার্যক্রমও চলতে পারে। তবে যেকোনো কারণে সংস্কারের ধারা থামানো যৌক্তিক নয় বলে মনে করেন তিনি।

রাজস্ব সংস্কার প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক বাধা ও পুরনো নিয়মের টানাপোড়েন ছিল। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কর আরোপ ও শুনানির দায়িত্ব একই কর্তৃপক্ষের কাছে থাকায় অনিয়ম ও মওকুফের প্রবণতা দেখা দিত। এ সমস্যা সমাধানে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদা করা হয়েছে। যদিও এ সিদ্ধান্তে কিছু সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, তবুও কর সংগ্রহ ব্যবস্থা সুষ্ঠু করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়। ব্যবসায়ীরা প্রায়শই কর কমানোর দাবি জানালেও কর আদায়ে ভাঙন ধরলে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি কীভাবে চলবে, সেটিও বিবেচ্য।

ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংককে একত্রিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের আসন্ন বসন্তকালীন বৈঠকে এই বিষয়গুলো আলোচনার প্রধান বস্তু হবে। আইএমএফ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পর্যালোচনা করে থাকে। তাদের প্রতিবেদনের সূচকগুলো ইতিবাচক থাকলে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থ সহায়তা প্রদান করে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা এবং নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। তাই বসন্তকালীন বৈঠকে আইএমএফের সঙ্গে সাবধানে আলোচনা করে কর্মসূচিটি চালু রাখা এবং সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া জরুরি।

সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, "সংস্কার করা না হলে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে।"