বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধীরা অপরিচিত প্রতিষ্ঠানের সস্তা প্রযুক্তিপণ্য এবং বিভিন্ন অ্যাপের সাহায্যে বটনেট নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বটনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের অজ্ঞাতে তাদের ঘরের ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে অনৈতিক ও অবৈধ কাজকর্ম চালানো সম্ভব হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, বটনেট নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ধরনের ‘রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি’ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। এসব সফটওয়্যার দিয়ে ব্যবহারকারীদের অজান্তে তাদের ঘরের ইন্টারনেটকে তৃতীয় পক্ষের তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম বানানো যায়, এমনকি কখনো কখনো অবৈধ কাজেও। কিছু রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি নেটওয়ার্কের বৈধ ব্যবহার থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো তথ্য সংগ্রহ (স্ক্র্যাপিং) বা অন্যান্য অনৈতিক কাজে কাজে লাগানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিনামূল্যে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা কনটেন্ট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া অ্যাপগুলোতে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগ অন্যের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়, যা পরে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। ইন্টারনেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান স্পারের সহপ্রতিষ্ঠাতা রাইলি কিলমার জানিয়েছেন, “কোনো ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা যদি সন্দেহজনক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে সেখানে ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকতে পারে।”
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার অজান্তে কেউ ঘরের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করছে কিনা তা জানতে প্রথমে নিজের নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ যাচাই করুন। সন্দেহজনক প্রক্সি নোড ধরতে সক্ষম টুল ব্যবহার করা যায়। ঝুঁকি পাওয়া গেলে নেটওয়ার্কে যুক্ত সব যন্ত্রপাতি ও ইনস্টল করা অ্যাপগুলো ধাপে ধাপে পরীক্ষা করতে হবে। বিনামূল্যে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক অ্যাপ, জনপ্রিয় গেম বা স্ট্রিমিং সেবার অননুমোদিত সংস্করণ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এছাড়া সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন, বিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করুন এবং নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া






