জীবনে সব ইচ্ছা পূরণ হয় না। বিশেষ করে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিলম্ব বা বাধা এলে অনেকের মনে যাতনা ও হতাশা জাগে। এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেকে নির্দিষ্ট ‘দোয়া’ বা ‘অজিফা’ খুঁজে বেড়ান।

কিন্তু ইসলামে বিয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা দোয়া নেই। দোয়ার কার্যকারিতা শব্দের খেলায় নয়, বরং হৃদয়ের আন্তরিক আকুতি, ইখলাস এবং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকায় নির্ভর করে। (ইউসুফ আল-কারাজাভি, ফাতাওয়া মাজমুআতু মাকালাত, ১/১৭৮, মাকতাবাতু ওয়াহবা, কায়রো: ২০০১)

আল্লাহ তাআলা মানুষকে কখনো দুঃখ দিয়ে, কখনো সুখ দিয়ে পরীক্ষা করেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫)

অনেকে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘দোয়া’ বা ‘অজিফা’ খুঁজে থাকেন। ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা দোয়া নেই।

দুনিয়া এক বৃহৎ পরীক্ষাকেন্দ্র। এখানে কেউ বিপদ থেকে মুক্ত নয়, এমনকি নবীরাও সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। যারা এসব পরীক্ষায় ধৈর্য ধরে, তারাই সফল হন।

ফুজাইল ইবনে আইয়াজ (র.) বলেছেন, “মানুষ যতক্ষণ সুখে থাকে ততক্ষণ তাদের আসল রূপ ঢাকা থাকে, কিন্তু বিপদ আসবামাত্র মুমিন তার ইমানের দিকে এবং মোনাফেক তার শঠতার দিকে ধাবিত হয়।” (ইউসুফ আল-কারাজাভি, ফিকহুত তাওবা, ১/১৮২, মাকতাবাতু ওয়াহবা, কায়রো: ২০০১)

আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনযাত্রার মান বণ্টন করে দিয়েছেন। (সুরা জুখরুফ, আয়াত: ৩২) তাই কোনো বিষয়ে বিলম্ব হলে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা মুমিনের লক্ষণ।

মুমিনের পরীক্ষা হলো ওষুধের মতো, যা তার ভেতর থেকে ক্ষতিকর রোগগুলো বের করে দেয়, অন্যথায় সেগুলো তাকে ধ্বংস করে দিত।
ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.)

মহানবী (সা.) বলেছেন, “মুমিনের প্রতিটি বিষয়ই বিস্ময়কর; তার সবকিছুই তার জন্য কল্যাণকর। যদি সে সুখ পায় এবং শোকরিয়া আদায় করে, তবে তা তার জন্য কল্যাণ। আর যদি সে দুঃখ পায় এবং ধৈর্য ধরে, তবে তাও তার জন্য কল্যাণের।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)

জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় কষ্ট মুমিনের গুনাহ মোচন করে। জ্বর, মাথাব্যথা বা কাঁটা ফোটার মতো ঘটনাতেও আল্লাহ তার পাপ ক্ষমা করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪০)

কখনো কোনো ব্যক্তির জন্য জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা নির্ধারিত থাকে, যা আমল দিয়ে অর্জন করতে পারে না। তখন আল্লাহ তাকে বিভিন্ন প্রতিকূলতায় পরীক্ষা করে ধৈর্যের মাধ্যমে সেই মর্যাদায় পৌঁছে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ২৯০৮)

ইমাম ইবনুল কাইয়িম বলেছেন, “মুমিনের পরীক্ষা হলো ওষুধের মতো, যা তার ভেতর থেকে ক্ষতিকর রোগগুলো বের করে দেয়, অন্যথায় সেগুলো তাকে ধ্বংস করে দিত।” (ইবনুল কাইয়িম, জাদুল মাআদ, ৪/১৭৯, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত: ১৯৯৪)