ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। রববার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে বিজেপির বিজয় সংকল্প সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মোদি বলেন, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। এবার এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। ৪ মে পর এই রাজ্যে গঠিত হবে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার। এটা মোদির গ্যারান্টি।
গত ১৫ মার্চ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির মহাসমাবেশে যোগ দেন নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে আসেন তিনি।
কোচবিহারের সভায় মোদি বলেন, এবার এই বাংলায় তৃণমূলবিরোধী তীব্র হাওয়া বইছে, এই বাংলার সরকার পাল্টানোর দরকার। এবার তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজের নেতারা ভয় পেয়ে গেছেন। অবসান হবে সিন্ডিকেট রাজের। বুঝে গেছেন আর থাকতে পারবে না তৃণমূল ক্ষমতায়। তাদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে। একই সঙ্গে মানুষের ভরসা বেড়ে গেছে বিজেপির ওপর।
মোদি আরও বলেন, দিন আসছে এই রাজ্য থেকে পালিয়ে যাবে গুন্ডারা। তাদের সবাইকে একে একে খুঁজে বের করে আইনের মাধ্যমে বিচার হবে।
বিজেপির সভায় দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে এই রাজ্যের জনবিন্যাস পাল্টে দিয়েছে অনুপ্রবেশকারীরা। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এক এক করে খুঁজে বের করে দেশছাড়া করা হবে। বিজেপির শাসনে সব দুর্নীতির বিচার হবে। পুরো হিসাব নেবে।
মালদায় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ করতে আসা বিচারকদের হেনস্তা ও আটকে রাখার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, এর বিচার অবশ্যই হবে। নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের নজরে রয়েছে এসব ঘটনা। এই রাজ্যের বিচারকেরা যখন নিরাপত্তার প্রশ্নে সুরক্ষিত নন, তখন কীভাবে রাজ্য সরকার রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে?
মোদি আরও বলেন, যে বাংলা একসময় দেশের বাণিজ্য, কলা, শিক্ষা, সংস্কৃতিতে এগিয়ে ছিল; সেই বাংলায় এখন উন্নয়নের পথে গ্রহণ লেগেছে। দেশে নতুন কারখানা তৈরি হচ্ছে আর এই বাংলায় কারখানা উঠে যাচ্ছে। তৃণমূলের ১৫ বছরের আমলে এই বাংলার জনবিন্যাস পাল্টে গেছে। তৃণমূল তো ভোটের আগে শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়। আজ এই রাজ্যের আলুচাষি, চা–শ্রমিকদের কথা শোনে না। ব্যবস্থা নেয় না। কম মূল্যে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন আলুচাষিরা। দেখছে না রাজ্য সরকার। অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে তৃণমূল এসআইআরের বিরোধিতা করছে।
মোদি জানান, ভারতের নারীদের আসন ৩৩ শতাংশ করার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
এদিকে রববার দুপুরে তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদে নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারের লক্ষ্যে রোড শোতে অংশ নেন। সেখানে তিনি পথে হাঁটেন এলাকাবাসীর সঙ্গে। আবেদন জানান তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার জন্য।
এর আগে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে এক নির্বাচনী জনসভায় মমতা বলেন, ‘এই ছাব্বিশের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে হবে বিজেপির বিসর্জন। তাই আমরা চাই এই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ।’
মমতা বলেন, যারা দাঙ্গা লাগায়, মানুষ খুন করে, বাংলা ভাষাকে অসম্মান করে, বাংলা ভাষায় কথা বললেই গ্রেপ্তার করে, তাদের এবার ভোট নয়। বাংলা ভাষা ও বাংলাকে রক্ষার জন্য এবার ভোট দিতে হবে তৃণমূলের জোড়া ফুলে।
মমতা বলেন, ‘বিজেপির ধর্ম বিষের ধর্ম। তারা ধর্মের নামে বাংলাকে বিভক্ত করতে চাইছে। আমাদের এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাংলার আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতাকে তুলে ধরতে হবে।’






