বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রভাব বিস্তারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। উভয় দলই পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ উত্থাপন করে।
বগুড়া-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান, যিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও বগুড়া শহর শাখার আমির। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে বগুড়া শহর জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবিদুর রহমান বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রচারে বাধা দেওয়া, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আইন হাতে তুলে নিব না। তবে যদি দেখি, প্রতিপক্ষ ভোট ডাকাতি করছে, তখন ডাকাত মোকাবিলা করা আইনবিরোধী নয়। তখন কী পদক্ষেপ নেব, তা আমরা তাৎক্ষণিক নেব।”
আবিদুর রহমান আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ স্বীকৃত হলেও সরকার তা উপেক্ষা করছে। এ কারণে বগুড়া উপনির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই নির্বাচনে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা-অনাস্থার প্রতিফলন ঘটবে। জামায়াতের এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা মাজেদা বেগম নামে জামায়াতের এক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া, ফাঁপোড় ইউনিয়ন ও বগুড়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারে বাধা ও কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির লোকজন মাইক বাজিয়ে দাঁড়িপাল্লার উঠান বৈঠক পণ্ড করেছেন এবং এরুলিয়া এলাকায় নাজনীন আক্তার নামে জামায়াতের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রচারণা শুরুর পর থেকেই দাঁড়িপাল্লার ব্যানার, ফেস্টুন খুলে ধানের শীষের ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবিদুর রহমান বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকেরা ততই নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করে তুলছেন। তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী এবং দলীয় লোকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে ১৫টি অভিযোগ প্রমাণসহ দাখিল করা হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী ও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়।
এদিকে, জামায়াতের প্রার্থীর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম। আজ রোববার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, শহরের সাতমাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের পোস্টার-ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে বা ঢেকে দিয়ে দাঁড়িপাল্লার ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এবং পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ধানের শীষের বিপক্ষে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
রেজাউল করিম আরও বলেন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপির নেতাকর্মীরা সহনশীল অবস্থানে আছেন এবং কোনো উসকানিতে পা দিচ্ছেন না। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান। তার দাবি, ভোটাররা তাদের পক্ষে রয়েছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে মুক্তকণ্ঠকে রেজাউল করিম বলেন, “সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করায় বগুড়ার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির জন্য এই আসনে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপনির্বাচনে আমাকে মনোনীত করেছেন। উপনির্বাচনে কোনো কারচুপি বা প্রভাব বিস্তারের প্রয়োজন নেই। ধানের শীষের যে গণজোয়ার উঠেছে, তাতেই প্রতিপক্ষের নিশ্চিত ভরাডুবি হবে। দাঁড়িপাল্লার নিশ্চিত ভরাডুবি বুঝতে পেরে এখন জামায়াতের প্রার্থী ভোটের আগেই মাঠ ছাড়ার কৌশল খুঁজছেন। এ কারণে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।”
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোথাও সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। নির্বাচনে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।