১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে চার নভোচারীকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠিয়েছে নাসা। গত বুধবার শুরু হওয়া এই অভিযানে চাঁদে অবতরণ না করলেও নভোচারীরা চাঁদ প্রদক্ষিণের সময় বিভিন্ন গবেষণা পরিচালনা করবেন। মহাকাশযাত্রার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে ধারণ ও বিশ্লেষণের জন্য আইফোন, নাইকন ক্যামেরাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য সঙ্গে নিয়ে গেছেন তাঁরা। ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসতে যাওয়া এই নভোচারীরা মহাকাশ অভিযানে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, সেগুলো সম্পর্কে জানা যাক।
অভিযানে নাইকনের দুটি মডেলের ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। নভোচারীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত নাইকন ডি৫ ক্যামেরাটি তীব্র বিকিরণ ও শূন্য মাধ্যাকর্ষণের মতো প্রতিকূল পরিবেশেও নিরাপদ থাকে। প্রথমবার মহাকাশে নেওয়া হয়েছে নাইকন জেড৯ মডেলের ক্যামেরা। এই ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরাটি ভবিষ্যতের আর্টেমিস–৩ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী চাঁদের চরম তাপমাত্রা ও বিকিরণ থেকে সুরক্ষার জন্য ক্যামেরাটিতে বিশেষ প্রযুক্তির তাপরোধক আবরণ যুক্ত করা হবে। লেন্সগুলোকেও একই পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হবে।
মিশনে গোপ্রোর চারটি ক্যামেরা যুক্ত হয়েছে। এগুলো ওরিয়ন মহাকাশযানের সোলার অ্যারে উইং বা সৌর প্যানেলের ডানায় বিশেষভাবে বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরা মহাকাশযান, পৃথিবী ও চাঁদের উচ্চ রেজোল্যুশনের ছবি ধারণ করবে। এছাড়া মিশনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মহাকাশযানের অবস্থা পর্যবেক্ষণের কাজেও এগুলো ব্যবহার করা হবে। ফলে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে মহাকাশযানের বাহ্যিক পরিস্থিতি সরাসরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
এই অভিযানে নভোচারীরা ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স নিয়ে গেছেন তাঁরা মহাকাশে। ইতিমধ্যে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে আইফোনগুলো ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন নভোচারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মহাকাশে ভাসমান অবস্থায় আইফোন একে অপরের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন নভোচারীরা। এতে সাধারণ মানুষের কাছে মহাকাশের অভিজ্ঞতা আরও জীবন্ত হয়ে উঠছে।
আর্টেমিস–২–এর যোগাযোগব্যবস্থার সবচেয়ে বিস্ময়কর কারিগরি দিক হলো ‘ওরিয়ন আর্টেমিস–২ অপটিক্যাল কমিউনিকেশনস’ বা ওটুও প্রযুক্তি। টমস হার্ডওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথাগত রেডিওভিত্তিক যোগাযোগের পরিবর্তে ওটুও প্রযুক্তি মহাকাশযান এবং পৃথিবীর মধ্যে তথ্য আদান–প্রদানে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশযান ও পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ২৬০ মেগাবিট গতিতে তথ্য আদান–প্রদান করা সম্ভব। ফলে চাঁদের কাছাকাছি অবস্থান করেও সরাসরি ফোরকে মানের ভিডিও পাঠানো যায়। একই সঙ্গে ফ্লাইট পরিকল্পনা, ছবি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুততার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষে পাঠানো সম্ভব।
আর্টেমিস–২ মহাকাশযানে অন্তত ২৮টি ক্যামেরা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ক্যামেরা মহাকাশযানের বাইরের অংশে যুক্ত করা হলেও কিছু ক্যামেরা অভ্যন্তরীণ কেবিন ও নভোচারীদের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে। ফলে অভিযানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তও এসব ক্যামেরায় ধারণ করার সুযোগ মিলছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া






