ইরানে ভূপাতিত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে মার্কিন বাহিনী। গতকাল শনিবার রাতে এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের দুটি উড়োজাহাজ ধ্বংস করতে হয়েছে।
অভিযানে মার্কিন কমান্ডোরা শত্রু দেশের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। এটি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেস’। বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, আহত ক্রুকে খুঁজে পেতে এবং তাঁর কাছে পৌঁছাতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে দুই দিন ধরে প্রতিযোগিতা চলে। শেষমেশ কয়েকশ মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যের অংশগ্রহণে বড় আকারের অভিযানে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় গত শুক্রবার। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
যুদ্ধবিমানে দুজন ক্রু ছিলেন—একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্রব্যবস্থা–সংক্রান্ত কর্মকর্তা। ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষার আঘাতে দুজনই ককপিট থেকে বেরিয়ে যান।
পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু অস্ত্রব্যবস্থা–সংক্রান্ত কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁকে খুঁজতে জরুরি অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। ইরানও এই ক্রুকে হন্যে খুঁজতে নামে।
এই তল্লাশি–উদ্ধার অভিযানের ফলাফল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। মার্কিন সেনাবাহিনী এই ক্রুকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর কয়েকশ সদস্য অংশ নেন। এছাড়া কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার হয়। সাইবার, মহাকাশ ও গোয়েন্দা সক্ষমতাও কাজে লাগানো হয়।
ক্রুর লুকানো এলাকায় ইরানি বাহিনীকে দূরে রাখতে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ও গুলি ছোড়া হয়। দুজন সাবেক মার্কিন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ক্রুর দিকে এগোতে গিয়ে গোলাগুলি শুরু হয়।
এক পর্যায়ে ক্রুকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর কাছে আত্মরক্ষার জন্য একটি পিস্তল ছিল। ক্রুসহ কমান্ডোদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো দুটি পরিবহন উড়োজাহাজ ইরানের এক প্রত্যন্ত ঘাঁটিতে আটকে যায়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও তিনটি উড়োজাহাজ পাঠানো হয়। পরে আটকে পড়া দুটি উড়োজাহাজ ইরানের হাতে না পড়ার জন্য বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয় বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত এলাকায় সরকারবিরোধীদের অবস্থান জোরালো। তাই নিখোঁজ ক্রু স্থানীয় লোকজনের আশ্রয় ও সহায়তা পেতে পারতেন।
ইরানি সামরিক বাহিনী এটি লক্ষ করে নিখোঁজ ক্রুকে ধরতে তীব্র তল্লাশি শুরু করে। স্থানীয় মানুষের সহায়তা চেয়ে পুরস্কার ঘোষণা করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন।






