চীনের গুয়াংঝু শহরে প্রতিবেশীর ওপর প্রতিশোধ নিতে এক ব্যক্তি অদ্ভুত উপায় বেছে নেন। লু নামের এই ব্যক্তি এবং তাঁর রুমমেট লি প্রতিদিন লাউডস্পিকারে ভৌতিক গল্পের অডিও চালাতে শুরু করেন। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা এবং বেলা সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে এই ভুতুড়ে শব্দ প্রতিধ্বনিত হতো দেওয়ালের পাশে বসানো স্পিকার থেকে।

তাঁদের প্রতিবেশী শি-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণ জানা না গেলেও, এই উদ্ভট কাণ্ড শুরু হয় প্রতিশোধের জন্য। শুধু শি নয়, দুই তলা উপরে থাকা চুই-এর পরিবারও এতে বিরক্ত হয়। চুই-এর সন্তান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু শান্ত পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছিল না।

শব্দের মাত্রা আইনি সীমার নিচে থাকায় সরাসরি কিছু করা যায়নি। বিধি অনুযায়ী, দিনে শব্দসীমা ৬০ এবং রাতে ৫০ ডেসিবেলের নিচে থাকতে হবে। স্পিকারে চালানো ভৌতিক গল্পের শব্দ মাত্রা ছিল ৩৬ ডেসিবেল। তবু চুই বিশ্বাস করতেন, লু ইচ্ছা করে এমন শব্দ তৈরি করছেন যা তাঁর পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করছে।

এজন্য চুই গুয়াংঝুর হাইজু ডিস্ট্রিক্ট পিপল’স আদালতে প্রি-লিটিগেশন ইঞ্জাংশনের জন্য আবেদন করেন। প্রি-লিটিগেশন ইঞ্জাংশন হলো, কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত রায় আসার আগে আদালতের এমন একটি আদেশ, যা কোনো পক্ষকে ক্ষতি বা বিঘ্ন ঘটাতে বাধা দেয়। আদালতের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে লু সব অডিও সরঞ্জাম খুলে ফেলেন এবং ভবিষ্যতে কোনো শব্দজনিত সমস্যা তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ঘটনাটি অনলাইনেও আলোচনার ঝড় তোলে। কেউ প্রশ্ন করেন, ‘আমার খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, কী ধরনের ঝগড়া হলো যে কেউ একজন ১০ ঘণ্টার ভূতের গল্প চালাতে বাধ্য হলো?’ কেউ লিখেছেন, ‘এই লোকটা সত্যিই সাহসী। তাঁর কি নিজের ভয় নেই? নিজে এবং প্রতিবেশী কাউকেই ছাড় দেননি তিনি।’