গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনের সামনে রেখে রাজধানীসহ শহুরে এলাকার নাগরিকরা গ্রামে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরেছিলেন। ফলে তাঁদের ব্যক্তিগত খরচ বেড়েছিল। এছাড়া নির্বাচন কেন্দ্রকে ঘিরে বিভিন্ন লেনদেনও বৃদ্ধি পায়। এসবের জন্য নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। নির্বাচনের আগের মাস জানুয়ারিতে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় সাত হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসে দেশের মোট প্রচলিত মুদ্রা থেকে ব্যাংকগুলোতে জমা টাকা বাদ দিয়ে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের নভেম্বরে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরে উঠে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা হয়। জানুয়ারিতে এই পরিমাণ আরও বেড়ে ২ লাখ ৮২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায় পৌঁছে।

নগদ টাকার পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি নির্বাচনের আগে-পরে প্রবাসী আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সদ্য অতিবাহিত মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। গত মাসে দেশে আসে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয়, যা এযাবৎকালীন সর্বোচ্চ। এটি গত বছরের মার্চের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যথাক্রমে ৩১৭ কোটি ও ৩০১ কোটি ডলার আসে। গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। ফলে চার মাস ধরে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সঙ্গে নির্বাচন, রমজান ও ঈদ কেন্দ্র করে প্রবাসী আয় বেড়েছে। এই প্রবণতা আগামী ঈদ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেও ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের আগস্টে তা ছিল প্রায় ২ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা। সেই সময় কয়েকটি ব্যাংক থেকে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ব্যবসায়ীরা এসব করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপও।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ কমে। গত বছরের জুলাইয়ে এটি ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, যা আগস্টে নেমে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা হয়। নভেম্বরে তা আরও কমে ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকায় পৌঁছে।

এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুব রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "নির্বাচন, রমজান ও ঈদের কারণে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া অনেক প্রবাসী আয় আসছে। এ জন্যও টাকা উত্তোলন বেড়েছে। এটা স্বাভাবিক। এই টাকা আবার ব্যাংকে ফিরে আসবে।"