উত্তর আমেরিকায় ১২ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো পাশা বা জুয়ার ঘুঁটির সন্ধান পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার মানুষের বিনোদন ও গণিতচর্চার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানী রবার্ট ম্যাডেনের গবেষণায় এই তথ্য বেরিয়েছে, যা সম্প্রতি আমেরিকান অ্যান্টিকুইটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাগুলোকে বিশ্বের প্রাচীনতম বলে জানা হতো।
আধুনিক ছক্কা বা লুডুর ঘুঁটির মতো এই প্রাচীন পাশাগুলো ছিল না। এগুলো হাড় বা কাঠের তৈরি দ্বিমুখী বস্তু, যা মুদ্রা নিক্ষেপের মতো করে ব্যবহার হতো। দুই পিঠে ভিন্ন রঙের প্রলেপ বা দাগ থাকত, যা থেকে খেলার ফলাফল নির্ধারিত হতো। রবার্ট ম্যাডেন এগুলোকে পাশা হিসেবে চিহ্নিত করতে চারটি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেছেন: হাড় বা কাঠের তৈরি দ্বিমুখী বস্তু, দুই পিঠে রং বা চিহ্নের স্পষ্ট পার্থক্য, সমতল বা সামান্য বাঁকানো উপরিভাগ এবং একসঙ্গে ছুড়ে ফেলার উপযোগী আকার-আকৃতি।
ঐতিহাসিকরা আগে মনে করতেন, পাশা খেলা বা সম্ভাবনা-সংক্রান্ত ধারণা শুধু এশিয়া-ইউরোপের উদ্ভাবন। কিন্তু ম্যাডেনের বিশ্লেষণ অন্য কথা বলে। তিনি উত্তর আমেরিকার ৫৭টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে ৫৬৫টি নিশ্চিত পাশা খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনগুলো ফলসাম সংস্কৃতির, যা ১২ হাজার ২০০ থেকে ১২ হাজার ৮০০ বছর পুরোনো। একটি গুটি ক্লোভিস মানুষের সময়ের হতে পারে, যা প্রায় ১৩ হাজার বছর প্রাচীন। এর আগে এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীনতম পাশা ছিল মাত্র ৫ হাজার ৫০০ বছরের। আমেরিকান আদিবাসীরা গণিত ও দৈবচয়নের ধারণা অন্তত হাজার বছর আগে থেকেই জানত।
ইতিহাসবিদদের মতে, পাশা বা জুয়া শুধু বিনোদন নয়, মহাবিশ্বের অনিশ্চয়তা ও সম্ভাবনা বোঝার মানবজাতির প্রথম পদক্ষেপ। ম্যাডেন বলেছেন, এই খেলা কেবল জুয়া ছিল না; আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সামাজিক সংহতি ও সংমিশ্রণের মাধ্যমও হতো। যদিও কেউ কেউ ধর্মীয় কাজে বা ভাগ্যগণনায় ব্যবহারের দাবি করলেও, খেলা হিসেবে এর প্রমাণ বেশি শক্তিশালী।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট






