ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য সামরিক খাতে আরও ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলারের বিশাল বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জন্য তিনি অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে ১০ শতাংশ ব্যয় সংকোচন করতে চান। বিদেশে মার্কিন স্বার্থ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা, মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠানো হওয়া এবং যুদ্ধের প্রভাবে দেশের ভেতরে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ পীড়িত হচ্ছেন এমন সময় এই প্রতিরক্ষা খাতের বিশাল বাজেট প্রস্তাব সামনে এসেছে। তবে এটি পাসের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জেরে মতবিরোধের কারণে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম সরকারি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। প্রতিরক্ষা খাতে এই বড় অঙ্কের বরাদ্দের ফলে ২০২৭ সালে বাজেট বেড়ে দাঁড়াবে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, যেখানে ২০২৬ সালের এই বাজেট ছিল ১ ট্রিলিয়ন ডলার। নতুন প্রস্তাবে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন থাকা হাজার হাজার সেনাসহ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বেতন ৫ থেকে ৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিরক্ষা খাতের এই বাজেট বৃদ্ধি ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগের ঐতিহাসিক বৃদ্ধির’ সমতুল্য। তবে এই বড় অঙ্কের বরাদ্দ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ঠিক বিপরীত, যখন তিনি সামরিক ব্যয়ের উচ্চমাত্রা দেখে একে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
প্রতিশ্রুতি রাখেননি ট্রাম্প
সরকারি ব্যয় কমানো এবং ক্রমবর্ধমান বাজেটঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই লক্ষ্যে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ককে একটি বিশেষ উদ্যোগের নেতৃত্বে নিয়ে এসেছেন, যার ফলে প্রায় ৩ লাখ মানুষ সরকারি চাকরি হারিয়েছে। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বেড়েই চলেছে। নির্দলীয় ‘কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১.৮৫৩ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৮৫ হাজার ৩০০ কোটি) ডলারে, যা গত বছরের ১.৭৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি। বাজেট কার্যকর হলে ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ব্যয় দাঁড়াবে ২.২ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা চলতি অর্থবছরের ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।
প্রতিরক্ষা ব্যয়
প্রতিরক্ষা বাজেটের এই বিশাল প্রস্তাব ক্যাপিটল হিলের কট্টরপন্থীদের সন্তুষ্ট করলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ট্রাম্প তাঁর সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে মরিয়া। গত বছর দলীয় সমর্থনে প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির পরও তিনি এই খাতে আরও ব্যয় বাড়াতে চান। ইরান যুদ্ধের খরচ মেটাতে পেন্টাগন ইতিমধ্যে আরও ২০০ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলারের অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রস্তাব কংগ্রেসে উত্থাপন করেনি। এটি উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত অন্যান্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে তাঁর বিতর্কিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের মজুত গড়ে তোলা এবং ৩৪টি নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সহায়তা জাহাজ তৈরির জন্য ৬৫.৮ বিলিয়ন ডলার। ৫০০ বিলিয়ন ডলার বাজেট বাড়ানো হয়েছে গোল্ডেন ডোম, জাহাজ তৈরির জন্য। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বেতন ৫ থেকে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কিছু ছাঁটাইয়ের লক্ষ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ‘পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’ বা গ্রিন এনার্জিবিরোধী অবস্থান। এছাড়া বিচার বিভাগের প্রায় ৩০টি কর্মসূচি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নাসার বাজেট ছাঁটাই
বাজেটে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় বিভাগে বড় ধরনের কাটছাঁটির প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কৃষি বিভাগে ১৯ শতাংশ, স্বাস্থ্য বিভাগে ১২.৫ শতাংশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থায় (ইপিএ) রেকর্ড ৫২ শতাংশ বরাদ্দ কমানোর কথা বলা হয়েছে। নাসার বাজেট ২৩ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের এই বাজেটে সাবেক অ্যালকাট্রাজ দ্বীপকে আবার সক্রিয় কারাগার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার জন্য ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার রাখা হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের কিছু শখের প্রকল্পের জন্যও তহবিল রাখা হয়েছে।






