গভীর মহাকাশে শক্তি সরবরাহ মহাকাশ গবেষণার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূর্যের আলো না পৌঁছানো এলাকায় সোলার প্যানেল কাজ করে না। কয়েক দশক ধরে পারমাণবিক শক্তি এর সমাধান হলেও এবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি নিউক্লিয়ার ব্যাটারি তৈরি করছেন, যা টানা ৪৩৩ বছর শক্তি সরবরাহ করতে পারবে। নাসা এবং ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারের যৌথ গবেষণায় এই বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের ধারণা বদলে দিতে পারে।

ভয়েজার-১ থেকে শুরু করে কিউরিওসিটি বা পারসিভিয়ারেন্স রোভারসহ গভীর মহাকাশের প্রায় সব যান প্লুটোনিয়াম-২৩৮ চালিত ব্যাটারি ব্যবহার করে। এর অর্ধজীবন প্রায় ৮৮ বছর, অর্থাৎ ৮৮ বছর পর শক্তি উৎপাদনক্ষমতা অর্ধেক হয়ে যায়। এটি নির্ভরযোগ্য হলেও উৎপাদন জটিল এবং ব্যয়বহুল।

এখন বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আমেরিসিয়াম-২৪১-এর উপর। এটি প্লুটোনিয়ামের শক্তিশালী বিকল্প। এর অর্ধজীবন প্রায় ৪৩৩ বছর, যা প্লুটোনিয়ামের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে শত শত বছর সচল থেকে তথ্য পাঠানো যাবে এমন মহাকাশ অভিযান সম্ভব হবে।

লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে আমেরিসিয়াম-২৪১ নিয়ে গবেষণা চলছে। এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক। এগুলোকে বলা হয় রেডিওআইসোটোপ পাওয়ার সিস্টেম। এতে রেডিওআইসোটোপের প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে তাপ উৎপন্ন হয়, যা বিশেষ কনভার্টার দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। এতে চার্জ দেওয়ার দরকার নেই এবং সূর্যালোক ছাড়াই ঠান্ডা বা অন্ধকারে কাজ করে।

তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তরের জন্য ফ্রি-পিস্টন স্টার্লিং কনভার্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এর যন্ত্রাংশগুলো সিস্টেমে ভাসমান থাকে, ফলে ঘর্ষণ বা ক্ষয় প্রায় হয় না। এটি মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা ওজনহীন পরিবেশে ১০ বছরের বেশি রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই কাজ করতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া