বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করে আসছেন। নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার সম্প্রতি নেরেতভা ভ্যালিস নামক প্রাচীন নদীখাতে বিপুল পরিমাণ নিকেল ধাতু শনাক্ত করেছে। মঙ্গল গ্রহের পাথরে এর আগে এত উচ্চমাত্রায় এই ধাতুর দেখা মেলেনি। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার মঙ্গলের রাসায়নিক ইতিহাস এবং প্রাণের বাসযোগ্যতা নিয়ে গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী হেনরি মানেলস্কি জানিয়েছেন, মঙ্গল গ্রহে এর আগে নিকেল পাওয়া গেলেও উল্কাপিণ্ডের বাইরে পাথরের স্তরে এবারই সবচেয়ে বেশি নিকেল শনাক্ত করা হয়েছে। পৃথিবী বা মঙ্গলের মতো গ্রহগুলো গঠনের সময় ভারী ধাতু হিসেবে নিকেল গ্রহের কেন্দ্রে চলে যায়। তাই ভূপৃষ্ঠে বা উপরিভাগে থাকা পাথরে এর উপস্থিতি বেশ বিরল। পারসিভিয়ারেন্স রোভার যে পাথরগুলো পরীক্ষা করেছে, সেগুলোর ৩২টিতে প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত নিকেলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই নিকেলসমৃদ্ধ পাথরগুলো অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে তৈরি হয়েছে। পৃথিবীতেও এমন পরিবেশে আয়রন-সালফাইড এবং নিকেলের মিশ্রণ দেখা যায়, যা প্রাচীনকালের অণুজীবসমৃদ্ধ পরিবেশের একটি বড় প্রমাণ। নেরেতভা ভ্যালিসের এই পাথরগুলো একসময় পানিপ্রবাহের কারণে আকৃতি পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে নিকেল এ এলাকায় এসেছিল এবং পরবর্তী সময়ে পানিপ্রবাহে তা দ্রবীভূত হয়ে পাথরের স্তরে মিশে গেছে।

পৃথিবীতে নিকেল অনেক অণুজীবের বেঁচে থাকার একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। নেরেতভা ভ্যালিসের পাথরে নিকেলের পাশাপাশি কার্বনযুক্ত জৈব যৌগ এবং সালফারের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। যদিও এই কার্বন অজৈব উপায়েও তৈরি হতে পারে, তবে পানি, নিকেল ও কার্বনের এই সহাবস্থান প্রাচীন মঙ্গলে অণুজীবের বেঁচে থাকার জন্য আদর্শ পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়।

জেজেরো ক্রেটার জ্বালামুখের এ অঞ্চল ৩৫০ কোটি বছর থেকে ৪০০ কোটি বছরের পুরোনো। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী মানেলস্কি বলেন, ‘পৃথিবীতেও ঠিক ওই সময়েই অক্সিজেন ছাড়াই বাঁচতে পারে এমন অণুজীবের প্রাধান্য ছিল। আমাদের এই আবিষ্কার প্রমাণ করে প্রাচীন মঙ্গলে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ উপস্থিত ছিল এবং তা অণুজীবের গ্রহণের উপযোগী ছিল।’

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট