বাংলা ২য় পত্র: অনুচ্ছেদ রচনা

পদ্মা নদী

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা। ভারতের গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করলে এর নাম হয় পদ্মা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের কাছে মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়া পর্যন্ত এটি পদ্মা নামেই পরিচিত। এর উৎস হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ এবং বাংলাদেশে আসার পর এটি দক্ষিণমুখী প্রবাহ ধারণ করে। পদ্মা নদীর প্রবাহ বৈচিত্র্যময়। বর্ষায় এটি বন্যার মতো ভয়াবহ রূপ নেয়। এর সর্বোচ্চ গভীরতা দেড় হাজার ফুটের বেশি এবং গড় গভীরতা প্রায় এক হাজার ফুট।

রাজশাহী নগরী পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। পদ্মার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের চুক্তি রয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারতের নিয়ন্ত্রিত পানি বণ্টন কখনো কখনো বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ রোধ করে। ফলে নিম্নাঞ্চলের নদীতীরবর্তী কৃষি ও জলবায়ুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পানি কমলে শস্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙালির আত্মপরিচয় ও দেশভক্তি প্রকাশে প্রচলিত স্লোগান: ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’। এই স্লোগান পদ্মাসহ বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোকে জাতীয় চেতনা ও জীবনের প্রতীক করে তোলে। পদ্মা নদী মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

  • ফারুক আহমেদ আবির, প্রভাষক
    মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা