ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কারাজে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। এতে কারাজের মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু সেতু আংশিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আটটি প্রধান সেতুর তালিকা প্রকাশ করেছে। এটিকে ‘ইটের বদলে পাটকেল’ জাতীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এই ‘হিটলিস্ট’ প্রকাশ করে জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের উচ্চতম বি১ সেতুতে দুটি হামলার পর কুয়েত, জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বেশ কিছু বিখ্যাত সেতু ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকায় রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু; সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শেখ জায়েদ সেতু, আল-মাকতা সেতু ও শেখ খলিফা সেতু; সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযোগকারী কিং ফাহাদ কজওয়ে এবং জর্ডানের কিং হুসেন সেতু, দামিয়া সেতু ও আবদুন সেতু।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চতম সেতুটি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকির পর এই হামলা চালানো হয়েছে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ১৩৬ মিটার উঁচু এই বি১ সেতুটি নির্মাণাধীন ছিল এবং তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজকে সংযুক্ত করার কথা ছিল।

বি১ সেতুটি যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেই আলবোর্জ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ঘোদরাতুল্লাহ সাইফ রাষ্ট্রীয় টিভি ও ফারস নিউজকে বলেছেন, এই হামলায় ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হামলার পর সেতুর বড় একটি অংশ ধসে পড়তে দেখা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরান থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বি১ সেতু থেকে ধোঁয়া ওঠার ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি বেশ দম্ভভরে বলেছেন, পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরান আলোচনার টেবিলে না বসলে আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ভেঙে পড়েছে, যা আর কখনো ব্যবহার করা যাবে না। এ রকম আরও অনেক কিছু ঘটবে। ইরানের জন্য খুব দেরি হওয়ার আগে এটাই সময় একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর। যেন এমন কিছু অবশিষ্ট থাকে, যা দিয়ে দেশটিকে আবারও মহান করে তোলা যায়।”

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে লিখেছেন, “নির্মাণাধীন সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা ইরানিদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি কেবল বিশৃঙ্খলায় থাকা শত্রুর পরাজয় এবং নৈতিক অবক্ষয়কেই ফুটিয়ে তোলে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও সরঞ্জাম থাকা ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।