পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় অবরোধ-বিক্ষোভ ও বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত।

আজ শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরুতে পালানোর চেষ্টায় শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছালে পুলিশ তাকে হাতে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। গ্রেপ্তারের পর তিনি একটি ভিডিও বার্তায় জনতাকে বলেন, ‘ভালো থাকুন আপনারা। এসআইআরবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যান।’

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন গতকাল বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এরপর পুলিশ তাকে খুঁজতে শুরু করে।

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন চলছে। গত বুধবার মালদহের কালিয়াচকে এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের শুনানি চলছিল। সেই সময় কালিয়াচকসহ মোথাবাড়ি, সুজাপুর এলাকায় বিক্ষুব্ধ ভোটাররা ব্যাপক হাঙ্গামা করে। তারা সড়ক অবরোধ করে, গাড়ি ভাঙচুর করে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটার সংশোধন কাজে নিযুক্ত বিচারকদের ওপর হামলা হয়। মালদহের ইটাহারে কালিয়াচক ব্লক অফিসে সাতজন বিচারককে আটক করে রাখা হয়, যার মধ্যে একজন নারী বিচারক ছিলেন। তাদের বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ওই দপ্তরে আটক রাখা হয়। এর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এলাকার আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামসহ বিধানসভা নির্বাচনে মোথাবাড়ি আসনে আইএসএফ প্রার্থী শাজাহান আলীর বিরুদ্ধে। মোফাক্কেরুল ইসলাম এসআইআরবিরোধী আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড। দুজনের উসকানিতে বিচারকদের আটক রেখে তাঁদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়।

মোফাক্কেরুল ইসলাম মালদহের ইটাহারের পোরসার হাটখোলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মালদহের কোর্টের পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টেও প্র্যাকটিস করেন। ২০২১ সালের সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি মিম বা আসাউদ্দিন ওয়েইসির দলে যোগ দেন। ২০২১ সালে এই দলে যোগদান করে ইটাহার বিধানসভা আসনে লড়ে তিনি হেরে যান। ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ৮৩১টি।