কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে তুললেও এর পরিবেশগত প্রভাব ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এআই চালানোর জন্য নির্মিত বিশাল ডেটা সেন্টার থেকে বেরোনো তাপ আশেপাশের এলাকার তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটাকে বলা হয় ডেটা সেন্টার হিট আইল্যান্ড, যার ফলে বিশ্বের প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ ইতিমধ্যে অতিরিক্ত গরমের শিকার। গবেষকদের মতে, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা দ্বিগুণ হবে এবং এর অর্ধেকই এআই খাতে ব্যবহৃত হবে।
গবেষকরা গত ২০ বছরের স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ৮ হাজার ৪০০-এর বেশি এআই ডেটা সেন্টারের অবস্থানের সঙ্গে ভূমির উপরিভাগের তাপমাত্রার তুলনা করেছেন। নির্ভুলতার জন্য তারা জনবহুল এলাকা থেকে দূরের ডেটা সেন্টারগুলোর ওপর জোর দেন। ফলাফল দেখায়, একটি এআই ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে আশপাশের তাপমাত্রা গড়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে। চরম ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। এই তাপ ডেটা সেন্টারের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, প্রভাব প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছে। এমনকি ৭ কিলোমিটার দূরে তাপের তীব্রতা মাত্র ৩০ শতাংশ কমে।
জনসংখ্যা তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানান, বিশ্বের প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ এমন এলাকায় থাকেন যা কোনো না কোনো এআই ডেটা সেন্টারের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে। এই জনগোষ্ঠী স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরমে বাস করছে, যা কেবল এই প্রযুক্তি কেন্দ্রের কারণে। গবেষক আন্দ্রেয়া মারিনোনি বলেন, মেক্সিকোর বাজিও অঞ্চল এবং স্পেনের আরাগন প্রদেশের মতো স্থানে ২০০৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অন্য কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও চালনায় প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে। প্রসেসরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়। কুলিং সিস্টেম এই তাপ কমিয়ে গরম বাতাস বাইরে ছাড়ে, যা স্থানীয় বায়ুমণ্ডল ও মাটি উত্তপ্ত করে।
মারিনোনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের গবেষণার ফলাফল বেশ বিস্ময়কর এবং এটি ভবিষ্যতে একটি বিশাল সমস্যায় পরিণত হতে পারে। যদি এখনই ডেটা সেন্টারগুলোর নকশা এবং স্থাপনের বিষয়ে সচেতন না হওয়া যায়, তবে স্থানীয় জলবায়ু পরিবর্তনের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।’
সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট






