বরগুনার পাথরঘাটায় ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেখিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সুলভমূল্যে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে পুলিশ রফিকুল ইসলাম (৩০)-কে আটক করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রিজসংলগ্ন একটি বাসা থেকে টাকা সংগ্রহের সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। রফিকুল পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সাবেক সহসভাপতি এবং উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইউনুছ আকনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মাইকিং করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কম মূল্যে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের কথা প্রচার করা হয়। এরপর রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে কার্ড তৈরির নামে টাকা সংগ্রহ করছিলেন। সন্দেহজনক এই কার্যকলাপ দেখে স্থানীয়রা গতকাল দুপুরে সেই বাসা থেকে তাকে আটক করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। আমার মতো শত শত মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।” আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে টাকা ফেরতের দাবিতে ভুক্তভোগীরা পাথরঘাটা থানার সামনে ভিড় জমায়। তাঁরা দ্রুত টাকা ফেরত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে—এমন কোনো বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্র করছে। তারা সুযোগ পেলে নানা ধরনের নাশকতা করতে পারেন। ফ্যামিলি কার্ড পেতে কোনো টাকা লাগবে না। কেউ টাকাপয়সা চাইলে তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিতে হবে।”
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক ব্যক্তি পাথরঘাটা উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হবে।”






