পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। দুই দলের শীর্ষ নেতারা প্রচারণায় একে অপরকে তীব্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল এতে যোগ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য।
রাজ্যের ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনে আট ধাপে ভোটের পর এবার তা দুই ধাপে নামানো হয়েছে।
বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমের নানুর এবং মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ও নবগ্রামে নির্বাচনী সভায় অংশ নেন। এসব সভায় তিনি নির্বাচন কমিশন, সমন্বিত ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেন।
মমতা বলেন, শুধু মুসলিম নয়—হিন্দু, মতুয়াসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটাকে তিনি বিজেপির প্রভাবের ফল বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, ‘বিজেপি নিজেই অনুপ্রবেশকারী দল। যাদের দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।’ তিনি প্রশ্ন করেন, সীমান্তরক্ষার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও অনুপ্রবেশের দায় কেন রাজ্যের ওপর চাপানো হচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মমতা। বুধবার তিনি বিজেপিকে সরাসরি অনুপ্রবেশকারী দল বলে আখ্যায়িত করেন।
মমতার দাবি, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ছাড়াও কলকাতার ভবানীপুর আসনে প্রায় ৪০ হাজার ভোটারের নাম কাটা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভবানীপুর থেকেই নির্বাচনে লড়ছেন তিনি, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।
নাম কাটা ভোটারদের ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তালিকায় ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে মমতা বলেন, এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ব্যয় বহন করবে তৃণমূল। তিনি জানান, তাঁর নিজের পরিবারের কয়েকজনের নামও সাময়িকভাবে বাদ পড়েছিল, যা পরে সংশোধন হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে সেইসব কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছে, যেখানে বিজেপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাঁর দাবি, মতুয়া সম্প্রদায়সহ বহু ভোটার এর শিকার হয়েছেন।
আসানসোলে এক দলীয় সভায় শমিক ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন এবার স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরিতে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সেই সুযোগ কমে এসেছে।
সামগ্রিকভাবে ভোটের আগমুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী লড়াই যত এগোচ্ছে, তত বাড়ছে বাগযুদ্ধের তীব্রতা—যা ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারের নির্বাচনও অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।






