যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ছোট গ্যারেজে ১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল শুরু হয় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলের যাত্রা। কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ স্টিভ ওজনিয়াক তখন একটি সার্কিট বোর্ডের নকশা তৈরি করেছিলেন। বন্ধুদের দেখানোর জন্য স্থানীয় একটি নামকরা ক্লাবে সেটি নিয়ে যান তিনি। কিন্তু তাঁর বন্ধু স্টিভ জবস এই বোর্ড তৈরি ও বিক্রির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা দেখে ফেলেন; এভাবেই অ্যাপলের জন্ম হয়।

গতকাল বুধবার অ্যাপল ৫০ বছর পার করেছে। ডেস্কটপ কম্পিউটার থেকে শুরু করে স্মার্টফোনকে মূলধারায় নিয়ে আসা, মোবাইল অ্যাপের জনপ্রিয়তা বাড়ানো এবং ডিভাইস ও সফটওয়্যারের নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিশিল্প ও জনসংস্কৃতি—দুটোকেই নতুন আকার দিয়েছে।

তবে সফটওয়্যার খাতের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যালফাবেট ও মাইক্রোসফট এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে হাজার কোটি ডলার খরচ করে আধিপত্য বিস্তার করছে। এই প্রযুক্তির যুগে আইফোন নির্মাতা অ্যাপলকে পাওয়ার হাউস হিসেবে টিকিয়ে রাখার চাপে আছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে ওপেনএআই ‘চ্যাটজিপিটি’ উন্মোচনের পর থেকে ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ বা শীর্ষ সাত প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্সে অ্যাপল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে নিজেদের চিপে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি যুক্ত করলেও বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, নতুন সিরিসহ বিভিন্ন ফিচার আনতে দেরি হওয়ায় অ্যাপল এআই ব্যবহারে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত প্রস্তুত ছিল না। এমনকি ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন এমন এআই ডিভাইস আনার পরিকল্পনা করছে, যা স্মার্টফোনের দীর্ঘদিনের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

যাইহোক, অ্যাপলের ডিভাইসের জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। আইফোন ১৭ সিরিজের ব্যাপক চাহিদায় ডিসেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় বেড়েছে। পাশাপাশি তাদের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ল্যাপটপ ৫৯৯ ডলারের ‘ম্যাকবুক নিও’ দারুণভাবে যাত্রা শুরু করেছে।

গত মঙ্গলবার স্ট্র্যাটেকারি ডটকমে স্বতন্ত্র প্রযুক্তি বিশ্লেষক বেন থম্পসন বলেন, “অ্যাপলের সমন্বিত ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কাউকে ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছর পার করেছে; কিন্তু পরবর্তী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ভর করছে এআই শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাবশালী হয়ে ওঠে এবং ওপেনএআই শেষ পর্যন্ত অ্যাপলকে টেক্কা দিতে পারে কি না, তার ওপর।”