যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের ওপর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী প্রথমবারের মতো খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য কোনো হুমকি নয়।
গত ১৯ মার্চ থেকে চলা এই যুদ্ধের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে হেগসেথ এই কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য হোয়াইট হাউসের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যেখানে ইরানকে বারবার ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
যদি এগুলো হুমকি না হয়, তাহলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণ কী—এর জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘তেহরানের সক্ষমতার বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে নিজেদের সম্পদ ও মিত্রদের রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এ কারণে প্রেসিডেন্ট এখন আশা করছেন, ইউরোপীয় মিত্ররাও পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।’
সেই মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রতি হেগসেথ আরও বলেন, ‘(ইরানের) এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতেও পারবে না। এগুলো কেবল মিত্রদেশ এবং অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছাতে সক্ষম। তবু যখন একটু বাড়তি সহায়তা চাই, জবাবে আমরা পাই কেবল প্রশ্ন, বাধা আর দ্বিধা।’
তিনি যোগ করেন, ‘এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, আপনি কোনো জোট গঠন করতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনার প্রয়োজনের সময় অন্যান্য দেশ আপনার পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছুক হয়।’
হেগসেথের বক্তব্যের আগের দিন ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের কাছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি জানিয়ে লেখেন, ‘কিছুটা সাহস দেখান, হরমুজ প্রাণালিতে যান এবং শুধু সেটির নিয়ন্ত্রণ নিন। নিজের জন্য কীভাবে লড়াই করতে হয়, সেটা আপনাদের এবার শেখা শুরু করা উচিত।’
ইউরোপের কাছে ট্রাম্প কেন সাহায্য চাইছেন
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে যাতায়াতের বিকল্প ছাড়া মার্কিন নাগরিকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।
ট্রাম্পের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল পণ্যমূল্য কমিয়ে আনা। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নিয়ে তিনি প্রায়ই পূর্বসূরি জো বাইডেনকে কটাক্ষ করতেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা কমে আসবে বলে ধরে তেহরান যুদ্ধকৌশল সাজাচ্ছে। তারা মার্কিন ও ইসরায়েল–সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
হেগসেথ বলেন, ‘ইরানকে প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেই বার্তা দিয়েছেন, ব্যবসার জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিন, অথবা আমাদের হাতে একাধিক বিকল্প আছে এবং আমরা নিশ্চয়ই এটা করব।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কী কী বিকল্প আছে, তা নিয়ে হেগসেথ কথা বলতে রাজি হয়ননি। বরং সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আপনি কী করতে চাইছেন বা কী করবেন না, তা শত্রুকে বলতে যাবেন না এবং আপনি কখন থামতে চান, সে কথাও আপনার শত্রুকে বলবেন না।’






