যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বলরুম নির্মাণের কাজ ততক্ষণাত্ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কাজ চালানো যাবে না। হোয়াইট হাউসের ঐতিহ্যবাহী ইস্ট উইং-এ ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বলরুম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যার অনুমানিত ব্যয় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার।
বলরুম নির্মাণের জন্য ইস্ট উইং-এর বড় একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ রিচার্ড লিওন ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশনের নিষেধাজ্ঞা আবেদন আমলে এই আদেশ জারি করেছেন। এই অলাভজনক সংস্থা আদালতে অভিযোগ করে, ‘হোয়াইট হাউসের ঐতিহ্যবাহী ইস্ট উইং ধ্বংস করে সেখানে নতুন ভবনের নির্মাণ শুরু করে ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।’
সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে নিযুক্ত এই বিচারক মামলার শুনানি চলাকালীন প্রকল্পটি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। লিখিত আদেশে তিনি প্রশাসনকে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা আমাদের কোথায় এনে ফেলেছে? বাদীদের জন্য (বিষয়টি) দুর্ভাগ্যজনক, কংগ্রেস এই প্রকল্পকে আইনগত অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত, নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে।’ আপিলের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে ১৪ দিন সময় দিয়েছেন তিনি।
তবে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যতটুকু কাজ প্রয়োজন, তা চালিয়ে যাওয়া যাবে বলে বিচারক লিওন উল্লেখ করেছেন। আদেশ জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ওয়াশিংটনভিত্তিক ইউএস ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট আপিল আদালতে আপিল দায়ের করেছে।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশনকে বামপন্থী ‘পাগলদের’ দল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, বলরুমটি বাজেটের মধ্যে, সময়সূচির আগেই, করদাতাদের কোনো খরচ ছাড়া তৈরি হচ্ছে এবং সারা বিশ্বের অনুরূপ ভবনগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে চমৎকার হবে।
ন্যাশনাল ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ক্যারল কুইলেন এক বিবৃতিতে আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন গত ডিসেম্বরে ইস্ট উইং ভাঙার পর এই সংস্থা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কয়েকটি ফেডারেল সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করে।
১৯০২ সালে নির্মিত এই ইস্ট উইং চার দশক পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের আমলে সম্প্রসারিত হয়। ন্যাশনাল ট্রাস্টের যুক্তি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের কারো ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস বা বড় নতুন ভবন নির্মাণের অধিকার নেই, যদি না কংগ্রেস স্পষ্ট অনুমোদন দেয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই প্রকল্প হোয়াইট হাউসের অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, নিরাপত্তা জোরদার এবং এক্সিকিউটিভ ম্যানশনে চাপ কমাবে। বর্তমানে বড় অনুষ্ঠানে অস্থায়ী কাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দাতাদের অর্থায়নে চলছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন।






