পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের বদলির প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলা কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করেছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, বদলি চাকরিজীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ এবং এর সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন হাতে। কমিশন যদি ক্ষমতার বাইরে কিছু করে তবেই আদালত হস্তক্ষেপ করবে, তার আগে নয়।
২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই ধাপে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকে এবং প্রশাসনে কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ পায় না। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে কমিশন রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বল্পমেয়াদী বদলি শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি সহ শতাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা। মাঠস্তরের অনেক কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়েছে। কিন্তু শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এসব বদলি মেনে নিতে পারেনি।
বদলির প্রতিবাদে তৃণমূলের পক্ষে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এর শুনানি হয়। শুনানির পর বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।
ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলেছে, "বদলি চাকরিজীবনেই একটি অঙ্গ। এটা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন একটি সিদ্ধান্ত। কমিশন ক্ষমতার বাইরে কিছু করলে তখন আদালত পদক্ষেপ নিতে পারেন।" আবেদনকারী কমিশনের কোনো ক্ষমতাবহির্ভূত কাজের প্রমাণ দিতে পারেনি। বদলি চাকরির স্বাভাবিক নিয়ম এবং অসন্তুষ্ট ব্যক্তি নিজে আইনের আশ্রয় নিতে পারে। কমিশন প্রতিটি বদলির কারণ ব্যাখ্যা করতে বাধ্য নয়।
বেঞ্চ আরও বলেছে, "বদলি মানেই কমিশনের উদ্দেশ্য খারাপ, এমন ব্যাখ্যাও ঠিক নয়।" কমিশন এখতিয়ারের বাইরে কাজ করলে আদালত হস্তক্ষেপ করবে। এই বদলিগুলো জনস্বার্থের কোনো ক্ষতি করেনি এবং রাজনৈতিক কারণের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। যে বদলি জনস্বার্থের সরাসরি ক্ষতি করে না, সেগুলো নিয়ে মামলা চলে না।






