জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। এবার আর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা থাকবে না।
আজ মঙ্গলবার সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) নেতাদের সঙ্গে প্রাক্–বাজেট আলোচনায় আবদুর রহমান খান এ কথা বলেন।
এছাড়া, সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার সম্পদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও কর আরোপের বিষয়ে এনবিআর চিন্তা করছে, তিনি জানিয়েছেন।
এবারের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হচ্ছে আজ দিবাগত রাত ১২টায়। সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হচ্ছে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছর থেকে বছরজুড়ে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এখনকার মতো ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সময় থাকবে না। রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর ব্যবস্থাও বাতিল হয়ে যাবে।
এনবিআরের আয়কর বিভাগ পরিকল্পনা করছে, যাঁরা আগে রিটার্ন দেবেন, তাঁদের কর ছাড় দেওয়া হবে। পরে দিলে খরচ বাড়বে। যেমন অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে কর ছাড় থাকবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) রিটার্ন দিলে যা কর নির্ধারণ হয়, তা দিলেই হবে। তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) দিলে নিয়মিত করের পাশাপাশি বাড়তি কিছু দিতে হবে। চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) রিটার্ন দিলে বাড়তি অর্থের পরিমাণ আরও বাড়বে। এমন পরিকল্পনায় এনবিআর সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।
তিন দফা সময় বাড়ানোর পর আজ দিবাগত রাত ১২টায় রিটার্ন জমার সময় শেষ। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার পর্যন্ত সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন। সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন ২০ হাজার করদাতা।
আজ এনবিআরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তি করদাতারা আজ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় অনুমোদন করতে পারেন।
এনবিআর আরও বলছে, রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন ও অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদনের কাজটি সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বস্তিদায়ক করার লক্ষ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটে অনলাইন সিস্টেম চালু করেছে। করদাতারা এখন সহজেই ই–রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেনু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারছেন।






