পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা ‘তাজবিদ’ নামে পরিচিত। তেলাওয়াতে সঠিক জায়গায় থামা এবং আবার শুরু করা অর্থ বোঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিরতি চিহ্নগুলোকে ‘ওয়াকফ’ বলা হয়।

কোরআন পড়ার সময় কোথায় থামতে হবে, কতক্ষণ থামতে হবে বা কোথায় মিলিয়ে চালিয়ে যেতে হবে—এসব বুঝতে ওয়াকফ বা বিরতি চিহ্ন চেনা আবশ্যক। সঠিক নিয়ম না মানলে অর্থ বদলে যেতে পারে, এতে কোরআন পাঠের আদব লঙ্ঘন হয় এবং পাপের কারণও রয়ে যায়।

ভুল জায়গায় থামলে আয়াতের অর্থ বিকৃত হতে পারে। তাই শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতকারীকে এই চিহ্নগুলোর গুরুত্ব জানতে হবে। কোরআনের প্রধান ৭টি বিরতি চিহ্ন এবং তাদের নিয়ম নিম্নরূপ:

আয়াতের মধ্যে ছোট ‘মিম’ (مـ) চিহ্ন দেখলে সেখানে থামা বাধ্যতামূলক। এটিকে ‘ওয়াকফে লাজিম’ বলা হয়।

এখানে না থেমে চালিয়ে গেলে আয়াতের অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই চিহ্ন দেখলেই তেলাওয়াত থামাতে হয়।

আরবি ‘জীম’ (ج) চিহ্ন মানে এখানে থামা জায়েজ। এটি ‘ওয়াকফে জায়েজ’ নামে পরিচিত। পাঠক চাইলে থামতে পারেন বা চালিয়ে যেতেও পারেন।

তবে সামান্য বিরতি নেওয়া ভালো, যাতে আগের অংশের অর্থ বুঝে পরের অংশের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

আয়াতের ওপর ‘কাফ, লাম, ইয়া’ (قلی) চিহ্ন থাকলে এখানে থামা উত্তম। এটি ‘ওয়াকফে কলীল’।

চালিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ না হলেও, তেলাওয়াতের সৌন্দর্য ও অর্থের গাম্ভীর্য রক্ষায় থামাই শ্রেয়।

কোরআনের অনেক জায়গায় পাশাপাশি দুটি ‘তিনটি ফোঁটা’ চিহ্ন (∴) দেখা যায়, যাকে মুআনাকাহ বলে।

এর নিয়ম হলো, এই দুটি চিহ্নের একটিতে থামতে হবে, কিন্তু দুটিতেই নয়। একটিতে থামলে অন্যটি থেকে চালিয়ে যেতে হবে।

আয়াতের ওপর ছোট ‘সীন’ (س) চিহ্নকে ‘সাকতাহ’ বলে। এখানে কণ্ঠ খুব অল্পক্ষণ থামাতে হয়, কিন্তু নিশ্বাস ছাড়া যাবে না। নিশ্বাস আটকে রেখে সামান্য থেমে আবার শুরু করতে হবে।

আয়াতের ওপর ‘সোয়াদ, লাম, ইয়া’ (صلی) চিহ্ন দেখলে থামার চেয়ে মিলিয়ে চালিয়ে যাওয়া উত্তম। এটি ‘ওয়াকফে আওলা’। বিশেষ কারণ না থাকলে এখানে না থামাই ভালো।

আরবি ‘লাম-আলিফ’ (لا) চিহ্ন মানে ‘না’, অর্থাৎ এখানে থামা যাবে না। তেলাওয়াত অবিচ্ছিন্নভাবে চালাতে হয়।

এতে থামলে বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ বা বিকৃত হয়। তবে আয়াতের শেষে (গোলাকার চিহ্নের ওপর) এটি থাকলে থামা যায়।

কোরআন তেলাওয়াতে এই চিহ্নগুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। সঠিক ছন্দ ও নিয়মে তেলাওয়াত করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং আল্লাহর বাণীর মর্ম সহজে বোঝা যায়। নিয়মিত অনুশীলনে এগুলো আয়ত্ত হয়।

কোরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত নিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, “আর কোরআন পাঠ করো সুষ্পষ্টভাবে ও ধীরে ধীরে।” (সুরা মুজ্‌জাম্মিল, আয়াত: ৪)