আমরা এতদিন মঙ্গল গ্রহকে ভূতাত্ত্বিকভাবে শান্ত বা সুপ্ত মনে জানতাম। কিন্তু নতুন গবেষণা এই ধারণা পাল্টে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গল গ্রহের ঘূর্ণনগতি প্রতিবছর কিছুটা বাড়ছে, ফলে গ্রহটির দিনের সময় কমে আসছে। নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা এই ঘূর্ণনগতির বৃদ্ধি শনাক্ত করেছেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, মঙ্গলের ঘূর্ণনগতি প্রতিবছর প্রায় ৪ মিলিআর্কসেকেন্ড করে বাড়ছে। এর ফলে গ্রহের প্রতিটি দিন এক মিলি-সেকেন্ডের সামান্য ভগ্নাংশ পরিমাণ ছোট হয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন সামান্য মনে হলেও শনাক্ত করতে নিখুঁত তথ্য দরকার হয়েছে। বিজ্ঞানী সেবাস্তিয়ান লে মাইস্ত্রে বলেন, "এই সামান্য পরিবর্তন দেখার জন্য অনেক দীর্ঘ সময় এবং প্রচুর তথ্যের প্রয়োজন হয়।"
প্রথমে বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন, গ্রহের ভরের পুনর্বণ্টন এর কারণ। মঙ্গলের মেরু অঞ্চলে অতিরিক্ত বরফ জমে ভরের ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। এটি অনেকটা আইস স্কেটারের মতো, যে ঘোরার সময় হাত-পা গুটিয়ে নিলে ঘূর্ণনগতি বাড়ে। মঙ্গলেও ভরের সংকোচন গতি বাড়াচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিষয়টি আরও জটিল। বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলের ম্যান্টেলের ভেতর থেকে হালকা উপাদানের বিশাল প্রবাহ উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। এই নেতিবাচক ভরের অস্বাভাবিকতা ঘূর্ণন ত্বরান্বিত করছে।
এই আবিষ্কার শুধু ঘূর্ণনগতিতে সীমাবদ্ধ নয়। ম্যান্টেলের প্রবাহ যদি কারণ হয়, তবে মঙ্গল বিজ্ঞানীদের ধারণার বিপরীত সক্রিয়। গ্রহের অভ্যন্তরে এখনও প্রক্রিয়া চলছে, যা থারসিস পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে—সেখানে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরিগুলো।
ইনসাইট মিশনের প্রধান গবেষক বিজ্ঞানী ব্রুস ব্যানারড্ট জানিয়েছেন, এই আধুনিক পরিমাপ সম্ভব হওয়া সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা। মঙ্গলের ঘূর্ণনগতি সম্পর্কিত তথ্য এখন তাত্ত্বিক নয়, ভবিষ্যতে মহাকাশযানের নেভিগেশন ও অবতরণ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলে মানব মিশনের হিসাবে এই সামান্য পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে নিখুঁত সময়হিসাব জরুরি হয়ে উঠছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া






