ইউরোপে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলে বেলজিয়াম একটি আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। এখানে আইইএলটিএস পরীক্ষা না দিয়েই সম্পূর্ণ অর্থায়নে পড়ার সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নানা বৃত্তির ব্যবস্থা আছে এবং দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বেলজিয়ামেরগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানের জন্য পরিচিত। আইইএলটিএস পরীক্ষায় না দিয়েও এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য আবেদন করা যায়।
আইইএলটিএস ছাড়াই বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার জন্য স্কলারশিপের তালিকা নিম্নরূপ—
১. গভর্মেন্ট অব বেলজিয়াম স্কলারশিপ—
বেলজিয়াম সরকার এক বছরের বিশেষ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রাম বা চার থেকে ছয় মাসের উন্নত প্রশিক্ষণ কোর্সে বৃত্তি প্রদান করে। উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এআরইএস নামক এই বৃত্তিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন করতে পারেন। এতে বেলজিয়াম সরকারনির্ধারিত যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়নে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া যায়।
২. আইইএলটিএস ছাড়াই মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ—
মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ বেলজিয়ামের আঞ্চলিক সরকার বা ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বৃত্তি। ফ্ল্যান্ডার্স ও ব্রাসেলসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার জন্য প্রতিবছর প্রায় ৩০টি স্কলারশিপ দেওয়া হয়। কিছু স্কলারশিপে আবাসন, চিকিৎসা বীমা, টিউশন ফি মওকুফসহ ৮ হাজার ২০০ ইউরো শিক্ষা ভাতা প্রদান করা হয়।
৩. ইরাসমাস মুন্ডাস মাস্টার্স স্কলারশিপ—
ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তিগুলোর মধ্যে ইরাসমাস মুন্ডাস অন্যতম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই স্কলারশিপ ইউরোপে বিভিন্ন মাস্টার্স ও ডক্টরাল স্টাডি প্রোগ্রামের জন্য। বেলজিয়ামে পড়ার জন্য আইইএলটিএস ছাড়াই এর জন্য আবেদন করা যায়। বৃত্তিতে শিক্ষার্থীদের মাসিক ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ ইউরো জীবনযাত্রার খরচসহ টিউশন ফি, ভিসা ফি, ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের বিমা খরচ দিয়ে থাকে।
৪. ভিএলআইআর-ইউওএস স্কলারশিপ প্রোগ্রাম—
ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়িয়ে দেয় এবং জীবনযাত্রার খরচ, বিমান ভ্রমণের টিকিট ও মাসিক অনুদান প্রদান করে। এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক আকাঙ্ক্ষিত স্কলারশিপগুলোর একটি। ফ্লেমিশ ইউনিভার্সিটি বা কলেজে সম্পূর্ণ অর্থায়নে পড়ার জন্য প্রতিবছর প্রায় ৩১ জন বিদেশি ছাত্রকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়।
৫. গ্লোবাল মাইন্ডস ডক্টরাল স্কলারশিপ—
গ্লোবাল মাইন্ডস ডক্টরাল স্কলারশিপ কে ইউ লিভেন-এর একটি উদ্যোগ, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক গবেষণাকে উৎসাহিত করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর পিএইচডি প্রার্থীদের গবেষণার সুযোগ এতে দেওয়া হয়। বৃত্তিতে সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, ২ হাজার ১৯৯ ইউরো মাসিক উপবৃত্তি, চিকিৎসা বিমা, বিমান ভাড়ার টিকিট ও মাসিক ৩১০ ইউরো গবেষণা ভাতা দিয়ে থাকে। এ স্কলারশিপে আবেদনের জন্য আইইএলটিএস লাগবে না।
বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইএলটিএস নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। বিশেষ করে, যদি আপনি ইতিমধ্যে আপনার ডিগ্রিগুলো ইংরেজিতে নিয়ে থাকেন। উপরের বৃত্তি ছাড়াও বেলজিয়ামের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলটিএস ছাড়াই পড়া যায়। এগুলো হলো—
*ভ্রিজে ইউনিভার্সিটি ব্রাসেলস
*অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয়
*ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়
*কে ইউ লিভেন
*হ্যাসেল্ট বিশ্ববিদ্যালয়
*ইউ লিগ।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আইইএলটিএস ছাড়া বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে আবেদন করবেন। আইইএলটিএস ছাড়া আবেদন করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি ইংরেজিতে লিখতে, পড়তে ও যোগাযোগ করতে পারেন। বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আবেদন করার সময় আইইএলটিএস থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য এখানে কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে।
যদি আপনি ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউট থেকে আপনার আগের ডিগ্রি অর্জন করে থাকেন। পূর্ববর্তী শিক্ষা যে ইংরেজিতে ছিল, তার প্রমাণ হিসেবে আপনার পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটি ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রশংসাপত্র, লেটারহেডযুক্ত কাগজে মুদ্রিত এবং সঠিকভাবে স্ট্যাম্প করা একটি সরকারি প্রশংসাপত্র। বেলজিয়ামের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি ব্যবহারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম অফার করে।






