পাঁচ বছর আগে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং। এখন সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন।
আজ সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর পর প্রেসিডেন্ট পদে মিন অং হ্লাইংয়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি মনোনীত হওয়ায় তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়া প্রায় নিশ্চিত। পার্লামেন্টে তাঁর পাশাপাশি আরও দুই ব্যক্তির নাম উত্থাপিত হয়েছে, যাদের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে মিয়ানমারে কয়েক ধাপে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। এতে বড় বিরোধী দলগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই নির্বাচনের পরই আজ পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন বসেছে।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিন অং হ্লাইং। ফলে পশ্চিমা অনেক দেশ তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত। এই গৃহযুদ্ধে দেশটির শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে দেশের বড় একটি অংশ সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মিয়ানমারের নতুন পার্লামেন্টের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য মিন অং হ্লাইংয়ের অনুগত। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, তাঁদের নির্বাচনে লড়তে হয়নি। বাকি সদস্যরা সামরিক বাহিনী সমর্থিত দলের হয়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।
সাধারণ নির্বাচন শান্তির পথ প্রশস্ত করবে—এমন দাবি করেছিল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন জান্তা সরকার। কিন্তু নির্বাচনটি ব্যাপক বিতর্কিত হয়েছে। জনপ্রিয় অনেক দলকে নিষিদ্ধ করা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে অনেক এলাকায় ভোট গ্রহণ না হওয়ায় অনেকে এটাকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করছেন।
সব অভিযোগ ও সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে সামরিক জান্তা দাবি করেছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট কে হবেন, আগামী কয়েক দিন পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংয়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বলে মনে করা হয়। ২০২০ সালের নির্বাচনে সামরিক বাহিনী সমর্থিত দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর তাঁর এই পদ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। মূলত এ কারণেই অং সান সু চির দলের নির্বাচিত সরকারকে অপসারণ করে তিনি অভ্যুত্থান করেছিলেন।
তবে প্রেসিডেন্ট হতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্ট হলে মিন অং হ্লাইংকে সামরিক নেতৃত্ব ছাড়তে হবে। এতে ঝুঁকি রয়েছে, কারণ অনেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা তাঁর নেতৃত্বে সন্তুষ্ট নন।
মিন অং হ্লাইং ইতিমধ্যে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার জন্য একান্ত অনুগত জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে বেছে নিয়েছেন। ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের জন্য এই জেনারেল কুখ্যাত।
সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ হারালে মিন অং হ্লাইং তাঁর ক্ষমতার বড় অংশ হারাতে পারেন, এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি নতুন একটি পরামর্শক কাউন্সিল গঠন করেছেন। তিনিই এর প্রধান হবেন। এর মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে তাঁর কর্তৃত্ব বজায় থাকতে পারে।
নতুন পার্লামেন্ট মূলত বর্তমান সামরিক জান্তারই প্রসারিত রূপ। পার্থক্য শুধু এই, এবার জেনারেলরা উর্দি ছেড়ে বেসামরিক পোশাকে শাসন করবেন।
পাঁচ বছর ধরে মিন অং হ্লাইংয়ের বিরোধিতা করে আসা লোকদের ওপর সহিংস দমন বন্ধের কোনো ইঙ্গিত তিনি বা তাঁর সহযোগীরা এ পর্যন্ত দেননি।






