ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দার্জিলিং পাহাড়ে অজয় এডওয়ার্ডের দল গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। অতীতে দেখা গেছে, বিধানসভা নির্বাচনের সময় পাহাড়ি রাজনৈতিক দলগুলো এই দাবি তুলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। এবারও তা ঘটেছে। তবে এবার অজয় এডওয়ার্ডের ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট দাবিটি জোরালোভাবে উত্থাপন করছে।
ফ্রন্টের নেতা অজয় এডওয়ার্ড আগে এডওয়ার্ড হামরো পার্টি গঠন করে দার্জিলিং পৌরসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন। কিন্তু দলের কাউন্সিলররা পরে অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চায় যোগ দেন। অনীত থাপা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ফলে অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টি ভেঙে যায়।
বিধানসভা নির্বাচন সামনে এলে অজয় এডওয়ার্ড সমর্থকদের নিয়ে ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট গড়ে তোলেন। তিনি এই ফ্রন্ট নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দার্জিলিংয়ের কোনো আঞ্চলিক দল সাড়া দেয়নি। তাই তিনি একাই গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলে প্রচারে নেমে পড়েন।
ইতোমধ্যে ফ্রন্টের প্রার্থীরা ঘোষণা করা হয়েছে। কার্শিয়াং আসনে বন্দনা রাই, কালিম্পংয়ে ব্রিটো লেপচা, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি আসনে নিমেষ সুনদাস এবং শিলিগুড়িতে কৃষ্ণনন্দ সিং প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। দার্জিলিং আসনে অজয় নিজেই লড়বেন।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তিনটি আসন বাদ রেখেছে। এই আসনগুলো অনীত থাপার দলকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছে অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম), বিজেপি-গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা জোট, অজয় এডওয়ার্ডের ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট এবং কংগ্রেস।
এই সমীকরণে দার্জিলিং বিধানসভা আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস দেখা দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এখানে মূল লড়াই মূলত দ্বিমুখী হবে। জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা–বিজেপি জোটের প্রার্থীদের। গত নির্বাচনেও তারা জয়ী হয়েছিল।
অজয় এডওয়ার্ডের দল আঞ্চলিক কোনো দলকে জোটে আনতে না পারলেও গোর্খাল্যান্ড দাবি তুলে কতদূর এগোতে পারবে, তা বিশ্লেষকদের কাছে দেখার বিষয়।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই পর্বে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে।






