হার্ডড্রাইভ বা ম্যাগনেটিক টেপ কয়েক বছরের মধ্যেই কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রক্ষার জন্য বারবার কপি করে সংরক্ষণ করতে হয়। এই সমস্যার সমাধানে মাইক্রোসফট দীর্ঘদিন তথ্য সংরক্ষণের একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে বোরোসিলিকেট কাচের একটি পাতলা স্লাবে প্রায় দুই টেরাবাইট তথ্য সংরক্ষণ করতেও সফল হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাইক্রোসফটের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ০.০৮ ইঞ্চি পুরু এবং ৪.৭ ইঞ্চি চওড়া বোরোসিলিকেট কাচের স্লাবে ২৫৮টি স্তরে বিপুল পরিমাণ তথ্য জমা করা হয়েছে। ডিজিটাল স্টোরেজের একটি বড় সমস্যা হলো হার্ডওয়্যার নষ্ট হলে ফাইল কপি করতে প্রচুর সময় ও সরঞ্জাম লাগে। কিন্তু কাচের ভেতরের স্তরে একবার তথ্য লিখে রাখলে কোনো বিদ্যুৎ বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দরকার পড়ে না। দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য এই স্থায়িত্বই সবচেয়ে বড় অর্জন।
এই প্রযুক্তিতে কাচের উপরিভাগে খোদাই না করে ফেমটোসেকেন্ড লেজার ব্যবহার করা হয়েছে। এই লেজারের পালসগুলো এক সেকেন্ডের এক ট্রিলিয়ন ভাগের এক ভাগ সময় স্থায়ী হয়। এই আলোর ঝলকানি কাচের ভিতরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটিয়ে তথ্যের মাইক্রোস্কোপিক চিহ্ন তৈরি করে। তথ্য কাচের ভিতরে থাকায় বাইরের ঘষা বা আঘাতে এটি নষ্ট হয় না। তথ্য উদ্ধারের জন্য কাচের ভিতরে বিশেষ আলো ফেলা হয় এবং মাইক্রোস্কোপিক ক্যামেরা দিয়ে প্যাটার্ন শনাক্ত করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য পড়া যায়। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, কাচের স্টোরেজের সবচেয়ে বড় সুবিধা এর স্থায়িত্ব। এটি ঘষা, ফুটন্ত পানি এবং উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। তাই বিশেষ যত্ন ছাড়াই বছরের পর বছর এটি কাজ করবে।
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার কাজানস্কি বলেন, ‘আপনি যদি ভবিষ্যতের জন্য কোনো বার্তা পাঠাতে চান, তবে তা কাচের মধ্যে জমা করার চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।’ মাইক্রোসফট ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তিতে সুপারম্যান সিনেমা এবং অসংখ্য গান সফলভাবে সংরক্ষণ করেছে।
তথ্য সংরক্ষণের এই নতুন প্রযুক্তি এখনো বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার ঘোষণা দেয়নি মাইক্রোসফট। বর্তমানে এটি প্রতি সেকেন্ডে ৬৬ মেগাবিট গতিতে তথ্য লিখতে পারে। এটি প্রচলিত ম্যাগনেটিক টেপের চেয়ে ধীর হলেও একাধিক লেজার বিম ব্যবহার করে গতি বাড়ানো সম্ভব।
সূত্র: আর্থ ডটকম






