যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এক মাস ধরে চলছে, কিন্তু আলোচনার আহ্বান সত্ত্বেও কোনো পক্ষই হামলা বন্ধ করেনি। এতে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে।

যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক প্রয়াস।

রয়টার্স সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আলোচনায় হরমুজ প্রণালিকায় জাহাজ চলাচল পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

প্রথম দিনের আলোচনা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, "আঞ্চলিকভাবে শক্তিধর দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও তাঁরা কথা বলেছেন।"

বৈঠক শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ৯০ মিনিট ফোনে কথা বলেন। এটি পাঁচ দিনের মধ্যে তাঁদের দ্বিতীয় ফোনালাপ। কর্মকর্তারা বলছেন, ফোনালাপের মূল বিষয় ছিল উত্তেজনা কমানো। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের আলোচনায় বিশ্বাসের ঘাটতি ছিল।

পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের পারমাণবিক আলোচনার সময় ইরানকে দুবার হামলার শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেছেন, একদিকে আলোচনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে হামলা চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পারস্পরিক সাংঘর্ষিক অবস্থানের কারণে দেশটির চাওয়ার বিষয়ে ইরান সন্দিহান। পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন, সরাসরি সংলাপ বিবেচনা করার আগে আস্থা তৈরি করার মতো পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ইসলামাবাদের এই বৈঠক হঠাৎ আয়োজিত নয়, বরং একটি প্রক্রিয়ার ফল। চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের রিয়াদে মুসলিম ও আরব দেশগুলোর সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়াই এখন চার দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রূপ নিয়েছে। এতে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

শুরুতে বৈঠক তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গভীর জড়িততার কারণে ইসলামাবাদকে স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

একই সময়ে চীন পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় সমর্থন জানিয়েছে এবং ইরানকে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে উৎসাহিত করেছে। এতে বোঝা যায়, বিশ্বের বড় শক্তিগুলো আঞ্চলিক উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছে।

কূটনীতিকদের মতে, চার দেশের এই বৈঠক নিজেরাই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। এর মূল উদ্দেশ্য আঞ্চলিক অবস্থানের সমন্বয় করা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি সংলাপের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।