বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করবে। এই ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর সময় দেওয়া হবে। ৮ কোটি টাকা ঋণের ক্ষেত্রে জামানত লাগলেও ১ কোটি টাকা পর্যন্ত কোনো জামানত ছাড়াই পাওয়া যাবে। ঋণটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টার্টআপ খাতের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকগুলোর মুনাফার অর্থ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠিত হয়েছে। এই তহবিল থেকে স্টার্টআপগুলো ৪ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবে। প্রাইম ব্যাংক এই তহবিলের আওতায় ঋণ প্রদান করবে।
ব্যাংকটি ২ বছরের কম বয়সী ব্যবসায় উদ্যোগে ২ কোটি টাকা, ২ থেকে ৬ বছর বয়সী উদ্যোগে ৫ কোটি টাকা এবং ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী উদ্যোগে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে। প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এম নাজিম এ চৌধুরী বলেন, “স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ দেওয়া নয়, বরং প্রয়োজনীয় গাইডলাইন, মেন্টরশিপ এবং ব্যবসা পরিচালনার সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। এতে করে ব্যাংকের ঝুঁকিও কমে আসবে।” এই স্কিমে ঋণের পাশাপাশি ইকুইটি বা মূলধন বিনিয়োগের সুযোগও রয়েছে।
প্রাইম ব্যাংক এই স্কিমে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে। ৪ শতাংশ সুদহারে টার্ম লোন সুবিধার মাধ্যমে এই ঋণ প্রদান করা হবে। ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে এই সুবিধার বিবরণ জানা গেছে।
যেসব স্টার্টআপ নতুন পণ্য, সেবা বা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে, তাদের এই ঋণের জন্য বিবেচনা করা হবে। পণ্য বাজারজাতকরণে নতুনত্ব এনেছে এমন স্টার্টআপগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ব্যবসাটি সম্প্রসারণযোগ্য, বাণিজ্যিকভাবে টেকসই এবং বিনিয়োগে মুনাফা করতে সক্ষম হতে হবে। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়াতে ভূমিকা রাখে এমন সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং উদ্যোক্তা বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
ঋণ পেতে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স বা নিবন্ধন দরকার। ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ লাইসেন্স (যেমন: ড্রাগ লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র) জমা দিতে হবে। কোম্পানির ক্ষেত্রে মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন এবং ইনকরপোরেশন সনদ লাগবে। অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) নিবন্ধিত চুক্তিপত্র প্রয়োজন। কোম্পানি বা অংশীদারদের অনুমোদনের জন্য বোর্ডের সম্মতি এবং উদ্যোক্তা, অংশীদার ও গ্যারান্টরদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট ও ছবি জমা দিতে হবে।
ঋণের বিনিময়ে অর্থায়নকৃত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ওপর উদ্যোক্তা, তার পরিবারের সদস্য এবং তৃতীয় পক্ষের গ্যারান্টি দিতে হবে। তৃতীয় পক্ষের গ্যারান্টি না থাকলে স্নাতক পাস করা উদ্যোক্তাদের শিক্ষাগত সনদ বা প্রাসঙ্গিক পেশাগত সনদ জামানত হিসেবে রাখা যাবে। সে জন্য সনদের সত্যতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারপত্র দিতে হবে। ৫০ লাখ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে জামানতকৃত সম্পত্তির নিবন্ধিত বন্ধক (মর্টগেজ) রাখতে হবে।
প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এম নাজিম এ চৌধুরী বলেন, “স্টার্টআপদের জন্য এই ঋণের বাইরেও কিছু বিশেষ সহায়তা রাখা হয়েছে। নতুন উদ্যোগে অনিশ্চয়তা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া নমনীয় ও বাস্তবভিত্তিক রাখা হয়েছে।” এছাড়া গ্রেস পিরিয়ড, নমনীয় কিস্তি সুবিধা, পরামর্শ ও নেটওয়ার্কিং সাপোর্ট দেওয়া হবে।






