দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলের মাছ ধরার শহর গান্সবাই এলাকার সমুদ্রসীমায় পোর্ট এবং স্টারবোর্ড নামের দুটি ওর্কা তিমি বিশ্বব্যাপী কুখ্যাত হয়ে উঠেছে। এরা সমুদ্রের ভয়ংকর শিকারি গ্রেট হোয়াইট শার্ককে শিকার করে অবলীলায় খেয়ে ফেলে। এই ওর্কাদের শিকার কৌশল এতটাই নিখুঁত যে অনেক বিজ্ঞানী মনে করতেন, দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে হোয়াইট হাঙরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমার প্রধান কারণ এই তিমি জোড়া। কিন্তু এনডেঞ্জার্ড স্পিসিস রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন গবেষণা ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ওর্কাদের চেয়েও দক্ষ ও ভয়ংকর শিকারি মানুষের কারণে হাঙররা আদি নিবাস ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। মানুষের কারণেই হাঙরের সংখ্যা দ্রুত কমছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
এই ঘাতক তিমিরা হাঙর শিকারে অত্যন্ত পারদর্শী। তারা ইকোলোকেশন পদ্ধতিতে আল্ট্রাসাউন্ডের মতো করে হাঙরের শরীরের ভেতর লিভার বা কলিজার অবস্থান শনাক্ত করে। হাঙরের কলিজা লিপিড বা চর্বিতে ভরা থাকে, যা তাদের দীর্ঘ যাত্রায় শক্তি সরবরাহ করে। ওর্কারা শল্যচিকিৎসকের মতো নিপুণতায় হাঙরের দেহ থেকে কেবল কলিজা বের করে নেয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে ১১টি হাঙর ওর্কাদের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে পোর্ট এবং স্টারবোর্ড জোড়া একদিনে ১৭টি হাঙর মারার রেকর্ডও গড়েছে। তবে গবেষণার প্রধান লেখক ও ওশেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী এনরিকো জেনারি জানিয়েছেন, সংখ্যাতত্ত্বে মানুষের হাতে হাঙর নিধনের হারের তুলনায় ওর্কারা তুচ্ছ।
বিজ্ঞানীদের মতে, ওর্কাদের শিকার প্রাকৃতিক ঘটনা, যা দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কিন্তু মানুষের মাধ্যমে হাঙর নিধন সরকারি নীতিমালার অধীন। এই নিয়ন্ত্রণহীন নিধন হাঙরের সংখ্যা পুনরুদ্ধারে বাধা সৃষ্টি করছে এবং বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা হাঙর রক্ষায় প্রথম হয়েছিল, কিন্তু শীঘ্রই এই প্রজাতিকে চিরতরে হারানোর লজ্জাজনক খেতাবও পাবে প্রথম।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট






