এক মাস আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে এখন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও জড়িয়ে পড়েছে। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী ইসরায়েলের ওপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত লোহিত সাগর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে।
সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। তবে তারা এ–ও বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কোনো সামরিক মোতায়েনের অনুমোদন দেননি।
মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করা এই যুদ্ধে হুতি বিদ্রোহীদের যোগদান নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে। গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যুদ্ধে হুতিরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। এতে শিপিং কোম্পানিগুলোকে ব্যয়বহুল বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর এখন জাহাজ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত শনিবার পর্যন্ত হুতিরা ইরান যুদ্ধ থেকে দূরে ছিল। কিন্তু সেদিনই হুতিদের এক মুখপাত্র বলেন, তাঁরা ‘ইসরায়েলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছেন।’
সংঘাত শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিলে সৌদি আরব তাদের বেশির ভাগ তেল লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানি করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে। ইসরায়েল এবং অঞ্চলের মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
এই সংঘাত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে এবং যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দেশটি এ সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক আয়োজন করেছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ইসলামাবাদে ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদকে ‘হামলা বন্ধে তাদের এ প্রচেষ্টার জন্য’ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, এমন একটি বৈঠক এই সপ্তাহে হতে পারে এবং তিনি ১৫টি পয়েন্টের একটি পরিকল্পনা উত্থাপন করেছেন। ওয়াশিংটন বলছে, এটি সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থলসেনা মোতায়েন করতে পারে বলে অনুমানের মধ্যে ইউএসএস ত্রিপোলি নামক উভচর অ্যাসল্ট শিপ প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেরিন ও নাবিক নিয়ে গত শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। পরদিন শনিবার ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ইরানে কয়েক সপ্তাহের জন্য স্থল অভিযান পরিচালনার জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টির সঙ্গে জানাশোনা রয়েছে এমন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের (নামপরিচয় প্রকাশ করা হয়নি) বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের এই পরিকল্পনায় অনুমোদন দেবেন কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি পূর্ণাঙ্গ কোনো যুদ্ধ হবে না, বরং বিশেষ বাহিনী আর নিয়মিত সেনাদের ছোট ছোট অভিযানে জোর দেওয়া হবে। পেন্টাগনের পরিকল্পনার মধ্যে খারগ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি স্থানগুলোর ওপর হামলাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।






